নিজেদের খরচে ছিল না বিরোধী দলের ছাঁটাই প্রস্তাব

সংসদ রিপোর্টার

নিজেদের খরচে ছিল না বিরোধী দলের ছাঁটাই প্রস্তাব

বাজেটে ৫৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৫৮টির ক্ষেত্রে ছাঁটাই প্রস্তাব দিয়েছে বিরোধী দল। তারা কেবলমাত্র সংসদ সচিবালয়ের ক্ষেত্রে ছাঁটাই প্রস্তাব দেওয়া থেকে বিরত রেখেছিল। ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটে সংসদ সচিবালয়ের জন্য যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে সংসদের ভোটে গ্রহণ করা হয়েছে ৭০ লাখ টাকা। যা নিয়ে বিরোধী দলের কোনো ছাঁটাই প্রস্তাব ছিল না।

বিরোধী দলের সদস্যরা ব্যয় কমানোর দাবি করে ১ হাজার ৩৪৩টি ছাঁটাই প্রস্তাবের নোটিশ দিয়েছে। বাজেটে প্রস্তাবিত দায়যুক্ত ব্যয় ছাড়া অন্যান্য ব্যয় সম্পর্কিত মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণের কার্যসূচিতে দাবি নং ১ হিসেবে ছিল জাতীয় সংসদ খাত। সংসদ কার্যে জাতীয় সংসদের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় সংসদ খাতে ২০২৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্য অর্থবছরের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ব্যয় নির্বাহে রাষ্ট্রপতিকে অনধিক ৭০ লাখ টাকা মঞ্জুর করার প্রস্তাব করেন। এই ৭০ লাখ টাকার বিপরীতে কোনো ছাঁটাই প্রস্তাব না থাকায় সংসদের নিজস্ব ব্যয় নিয়ে বিরোধী দলের আনুষ্ঠানিক আপত্তি কার্যসূচিতে আসেনি।

বিজ্ঞাপন

নির্দিষ্টকরণ বিলের তফসিল অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ খাতে মোট বরাদ্দ ২৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায়যুক্ত ব্যয় ২৮৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা। সংসদে ভোটে গৃহীত অংশ মাত্র ৭০ লাখ টাকা।

সংবিধান ও কার্যপ্রণালি অনুযায়ী দায়যুক্ত ব্যয় সংসদের ভোটে দেওয়া যায় না। ফলে জাতীয় সংসদ খাতের প্রায় পুরো বরাদ্দই ভোটের বাইরে থাকে। কিন্তু যে সামান্য অংশটি ভোটে ওঠে, সেটি নিয়েও কোনো সদস্য ছাঁটাই প্রস্তাব আনেননি।

কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, বাজেট কোনো কমিটিতে পাঠানো হয় না। বাজেট উপস্থাপনের পর দীর্ঘ আলোচনা, মঞ্জুরি দাবি, ছাঁটাই প্রস্তাব, ভোট এবং নির্দিষ্টকরণ বিলের মাধ্যমে বাজেট পাস হয়। এই কাঠামোয় কোনো খাতের নীতি, ব্যয়, মিতব্যয়িতা বা প্রশাসনিক ঘাটতি নিয়ে সংসদে আনুষ্ঠানিক আপত্তির প্রধান পথ হলো ছাঁটাই প্রস্তাব।

ছাঁটাই প্রস্তাবের তিনটি ধরন আছে। কোনো দাবির পরিমাণ ১ টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব নীতি অননুমোদন ছাঁটাই। নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কমানোর প্রস্তাব মিতব্যয় ছাঁটাই। আর কোনো নির্দিষ্ট অভাব-অভিযোগ তুলে দাবির পরিমাণ ১০০ টাকা কমানোর প্রস্তাব প্রতীক ছাঁটাই।

সংসদ সদস্যদের পারিশ্রমিক ও ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩-এ। ওই আদেশ অনুযায়ী, একজন সাধারণ সংসদ সদস্য মাসে ৫৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পান। এর বাইরে নির্বাচনি এলাকা ভাতা ১২ হাজার ৫০০ টাকা, আপ্যায়ন ভাতা ৫ হাজার টাকা, যাতায়াত ভাতা ৭০ হাজার টাকা, নির্বাচনি এলাকায় দপ্তর রক্ষণাবেক্ষণে ১৫ হাজার টাকা, কাপড় ধোয়ার ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিবিধ খরচে ৬ হাজার টাকা পাওয়ার অধিকারী তিনি। বাসার টেলিফোন ভাড়া ও কলের জন্য মাসে ৭ হাজার ৮০০ টাকা এবং চিকিৎসা ভাতা হিসেবে মাসে ৭০০ টাকাও পাওয়ার বিধান রয়েছে।

এসব নিয়মিত মাসিক পারিশ্রমিক ও ভাতা মিলিয়ে একজন সাধারণ সংসদ সদস্যের মাসিক সুবিধা দাঁড়ায় অন্তত ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা।

এর বাইরে সংসদ অধিবেশন বা কমিটির বৈঠকে যোগদানের জন্য ভ্রমণ ভাতা, উপস্থিতির ভিত্তিতে দৈনিক ভাতা ও যাতায়াত ভাতা, বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ সুবিধা, ১০ লাখ টাকার দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতার বীমা এবং বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকার বিবেচনামূলক অনুদানের বিধান রয়েছে।

সংসদ সদস্যদের বেতন ভাতাসহ সকল সুযোগ সুবিধা সংসদ সচিবালয়ের মাধ্যমে ব্যয় করা হয়।

এএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন