সপ্তাহান্তের বিড়ম্বনা

বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি নিয়ে সংসদে ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার

বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি নিয়ে সংসদে ক্ষোভ

স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে সপ্তাহের শেষ দিকে বিমান টিকিটের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে জাতীয় সংসদে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে নোয়াখালী-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে একই বিষয়ে আলোচনা করেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বিজ্ঞাপন

পয়েন্ট অব অর্ডারে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, বুধবার ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যে আমরা জেনেছি চারটি টেলিফোন কোম্পানির কাছে সরকারের ১৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। একটি উন্নয়নশীল দেশে এটি বিশাল অঙ্কের রাজস্ব। গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান টেলিটকের কাছে এ টাকা পাওনা রয়েছে।

জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট আরেকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ এক মাসের জন্য হয়তো এক হাজার টাকার ইন্টারনেট কিনলাম। কিন্তু মাস শেষে দেখা গেল ৪০০ বা ৫০০ টাকার ইন্টারনেট অব্যবহৃত রয়ে গেছে। মেয়াদ শেষ হলে সে টাকা বা ডেটা অটোমেটিক্যালি কোম্পানিগুলোর পকেটে চলে যায়। এটা জনগণের সঙ্গে এক ধরনের অন্যায়। এ টাকা কেন তারা নিয়ে যাবে?

বিমানের টিকিটের দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, বৃহস্পতি ও শুক্রবার যারা যাতায়াত করেন, তাদের পকেট কাটা হচ্ছে। অন্যদিন যে টিকিটের দাম দুই হাজার ৮০০ বা তিন হাজার টাকা, বৃহস্পতিবার সেটি হয়ে যায় ১০ হাজার টাকা। এ বিষয়গুলো দেখা দরকার।

জয়নুল আবদিন ফারুকের এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, বিমানের টিকিটের ওপর যে জুলুম চলছে, সে বিষয়ে আমি আগেও নোটিস দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। এটি আলোচনার যোগ্য একটি বিষয়। মানুষের ওপর এ জুলুম বন্ধ হওয়া উচিত।

মুজিবুর রহমান আরো বলেন, শুধু টেলিফোন কোম্পানি নয়, সাবেক অনেক সংসদ সদস্যের কাছেও টেলিফোন বিল ও বাড়িভাড়া বাবদ অনেক টাকা পাওনা রয়েছে। এই জাতীয় সম্পদগুলো উদ্ধারে সংসদকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। কেউ মারা যাওয়ার আগে যেন এই ঋণের বোঝা নিয়ে না যান, সে ব্যবস্থা করা উচিত।

সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, আপনারা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট যে বিষয়গুলো তুললেন, সেগুলোর জন্য যথাযথ বিধি মেনে নোটিস দিন। নোটিস দিলে অবশ্যই সংসদে এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ দেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...