ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত (২৪) নামে এক তরুণ এর মৃত্যুর ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা অবস্থায় একজন তরুণের মৃত্যু জনমনে প্রশ্ন তৈরি করে। আসক এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছে।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো আসকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়।
সংস্থাটি বলছে, মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকার মির্জা এসকেন্দারের ছেলে এবং ফরিদপুর আইন মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ২০ জুন সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম গোন্দারদিয়া গ্রাম থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ প্রান্তকে আটক করে বলে দাবি করেছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওমি আলমগীর হোসেন।
তিনি আরো দাবি করেন, আটকের পরে প্রান্তকে মধুখালী থানায় নেয়া হয়। এরপর মাদক সংক্রান্ত আরও অভিযান শেষে ভোরে তাকেসহ মোট চারজনকে ফরিদপুর শহরে নিয়ে ডিবি হেফাজতে রাখা হয়। সেখানে প্রান্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ২১ জুন সকালে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
নিহতের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ও হেফাজতে নেয়ার সময় তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, যা তার মৃত্যুর কারণ হতে পারে। পরিবারের এই অভিযোগ রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর বিষয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে আবারও সামনে এনেছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) মনে করে, রাষ্ট্রীয় হেফাজত কোনো অবস্থাতেই জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হতে পারে না। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকারকে অক্ষুণ্ণ ও সুরক্ষিত রাখা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে স্বীকৃত।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ (আইসিসিপিআর) এবং নির্যাতনবিরোধী কনভেনশন এর পক্ষভুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে হেফাজতে থাকা ব্যক্তির নিরাপত্তা, মর্যাদা ও জীবন রক্ষায় বাধ্য।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

