বাজেট আলোচনায় নাহিদ

ভারতের হাইকমিশনারের উচিত ছিল বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া

সংসদ রিপোর্টার

ভারতের হাইকমিশনারের উচিত ছিল বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া
ছবি : সংগৃহীত

নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের বাংলাদেশে আসার পরপরই ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। রোববার বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ভারত সরকার বাংলাদেশে যে প্রত্যক্ষভাবে এবং পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে সহায়তা করেছে, সেজন্য ‍উচিত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।

নাহিদ বলেন, ভারতীয় নতুন হাইকমিশনার বাংলাদেশে প্রবেশ করেই ভারতের আকাশ জমি বাংলাদেশের আকাশ জমির সাথে মিলিয়ে ফেলেছেন। নতুন হাইকমিশনারের উচিত ছিল বিগত ১৬ বছরের জন্য ক্ষমা চাওয়া। এখানে যে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল এবং এখনো সেই গণহত্যার হত্যাকারী ওসমান হাদি হত্যাকারীকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে নাশকতা করছে আওয়ামী লীগ। তার জন্য ভারতীয় হাইকমিশনারের ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত ছিল।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্তে প্রায় ১০ জনের মতো বাংলাদেশিকে ভারতীয় বাহিনী বিএসএস দ্বারা হত্যা করা হয়েছে এবং অবৈধ বাংলাদেশি পুশিং করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা বিজিপিকে সাধুবাদ জানাই তারা যেভাবে প্রতিরোধ করছে যেভাবে দৃঢ়তার সাথে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

বর্তমান সরকারকে দুর্নীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারকে বলবো- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন এবং যারা টাকা পাচার করেছে অর্থনৈতিকভাবে লুটপাট করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনুন। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবো এবং বাংলাদেশকে একসাথে নেতৃত্ব দেব।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের দেশে বর্তমান যে সংকট তা মোকাবিলায় জিয়াউর রহমানের মতো নীতি বা পরিকল্পনা অনুসরণ করা দরকার ছিল। কিন্তু আফসোস বর্তমান সরকারের যে আই হ্যাভ এ প্ল্যান সেই প্ল্যানের ভিতরে আমরা এই ধরনের কোনো নীতি বা এই ধরনের কোনো পরিকল্পনা আমরা পাইনি, যেটা কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। জিয়াউর রহমানের মতো কোনো পরিকল্পনা কিন্তু অনেক থেকে আমরা এই বাজেটে পাইনি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়েছে, দলীয়করণ হয়েছে। অর্থনৈতিও কুক্ষিগত হয়েছে। তিন চারটা কোম্পানি বাংলাদেশের সকল ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। আমরা জানি কিভাবে ব্যাংক লুট হয়েছে। দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপার্ট হয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা খুবই সুপরিকল্পিতভাবেই আন্দোলনের নাম দিয়েছিলাম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। কারণ আমাদের সামনে স্পষ্ট ছিল যে শুধু সরকারি চাকরিতে গোটা যেমন বৈষম্য কিন্তু সমাজের যে মূল বৈষম্যটা রয়ে গেছে যার ফলে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। তার বিরুদ্ধে আসলে আমাদের আন্দোলন করতে হবে। তার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই করতে হবে। ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গণঅপুত্থান সংঘটিত হলো এবং স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটলো।

বর্তমান সময়ে তিনটি প্রধান সংকট হচ্ছে- কর্মসংস্থান তৈরি, ব্যাংকিং খাত সমস্যা ও বিদ্যুতের চুক্তি।

এনসিপির সংসদ সদস্য বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে অর্থনৈতিক একটা পরিবর্তন হবে বলে বলা হচ্ছে। এর ফলে অর্থনীতিতে টাকা ঢুকছে এটা সত্য। কিন্তু এই ফ্যামিলি কার্ড কনজামশন ডিমান্ড তৈরি হবে। এর ফলে আমদানি করতে হবে এবং মূল্যস্ফিতি হয়ে হবে।

তিনি বলেন, বাজেটে ব্যাংকিং খাতে ৪০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংক রেজুলেশন আইন সংস্কার করে যারা ঋণ খেলাপি ও পাচারকারীদের তাদেরকে আবার সুযোগ দিচ্ছে। ঋণ খেলাপি ছিল যারা দেশের টাকা লুট করেছে বিদেশে পাচার করেছে আর যারা গণহত্যা করেছে তাদের অপরাধ আমি খুব ভিন্ন কিছু দেখি না। শিকদার, জেমকন বেক্সিমকো, নাসা, ওরিয়ন এই ধরনের গ্রুপগুলা যারা এদেশের অর্থ পাচার করেছে সেই সকল ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে কি আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন? বিদ্যমান আইন দিয়ে আপনি আসলে তাদের বিরুদ্ধে খুব বেশি ব্যবস্থা নিতে পারবেন না। এস আলমের দুর্নীতির সাথে রাষ্ট্র জড়িত ছিল। ডিজিএফআইকে দিয়ে ইসলামী ব্যাংক দখল করেছে। আমাদেরকে এই ধরনের অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে নতুন আইন লাগবে।

তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে কাঠামোগতভাবে বাংলাদেশের অর্থ করা হয়েছে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সেক্টরকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আপনারা কি ব্যবস্থা নেবেন? আপনি আদানি চুক্তির বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেবেন? আপনি সামিটের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিবেন? আপনি এস আলমের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেবেন? আমরা জানি এই চুক্তিগুলা সার্বভৌম। ফলে আমাদেরকে আন্তর্জাতিকভাবে এটা লড়াই করতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে যে এখানে দুর্নীতি হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেকগুলো দুর্নীতির প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছিল। এখন সরকারের সদিচ্ছার বিষয় সরকার এটাকে কাজে লাগাবে কিনা। সরকার যদি এটাকে কাজে না লাগায় কোনোভাবে সরকার বিদ্যুতের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে পারবে না।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদে বিএনপি স্বাক্ষর করেছিল এটার পক্ষে ভোট চেয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খুবই সৎভাবে এই সংসদে জাতির সামনে স্বীকার করেছিলেন যে নির্বাচনের জন্য আপস করে সাইন করেছেন।

এনসিপি নেতাদের দামি দামি গাড়ি বিষয়ে সরকার দলের এমপিদের সমালোচনার জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের একজন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য তার এক বক্তব্যে বলেছেন যে এখন অনেকে গাড়ি গাড়ি চড়ে। যে আগে তারা কি চড়তো বা রিকশা চড়তো এখন তারা গাড়ি চলে। আজকে মাসের ২৮ তারিখ আমি রেন্টে কারে ভাড়া নিয়ে একটা গাড়ি ব্যবহার করি। এটি করা লাগে আমার নিরাপত্তার জন্য। তো সেই গাড়ি ভাড়াটা এখনও দিতে পারিনি মাসের শেষ তো। আমাদের সরকারদলীয় অনেক নেতারা জেলে থাকতে তাদের সম্পদ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। জানি না এই আমলে সেটা কয়েক কয় গুণ বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি রোধ করার জন্যই সুশাসন এবং রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজন ছিল। গণভোট বাস্তবায়নের দরকার ছিল। দুর্নীতিকে রোধ করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই আমাদেরকে গণভোট বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোটের রায়, সংস্কার এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, এই হাজারো সংগ্রাম লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি। এই দেশকে আমরা রক্ষা করতে চাই। এদেশকে আমরা ঐক্যবদ্ধ করতে চাই। এই দেশকে রক্ষার জন্য স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য বৈষম্যহীন এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্যই ২০২৪ সালে এত এত তরুণ, এত এত মানুষ জীবন দিয়েছে। আশা করব সেই জীবনদান বৃথা যাবে না।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...