দেশে জরায়ুমুখ ক্যানসার নির্মূলে আইপিভিএস চ্যাপ্টারের যাত্রা শুরু

স্টাফ রিপোর্টার

দেশে জরায়ুমুখ ক্যানসার নির্মূলে আইপিভিএস চ্যাপ্টারের যাত্রা শুরু

দেশে এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস) সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধে টিকাদান, সচেতনতা ও সময়মতো স্ক্রিনিং কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, এইচপিভি শুধু জরায়ুমুখের ক্যান্সার জন্য দায়ী নয়, এটি নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার ঝুঁকি তৈরি করে। তবে কার্যকর টিকাদান, জনসচেতনতা এবং সঠিক সময়ে পরীক্ষা নিশ্চিত করা গেলে জরায়ুমুখের ক্যানসার নির্মূল করা সম্ভব।

সোমবার শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ইন্টারন্যাশনাল প্যাপিলোমাভাইরাস সোসাইটি (আইপিভিএস) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে মূল্য প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের লিড অধ্যাপক ডা. আশরাফুন্নেছা। তিনি বলেন, এইচপিভি সবচেয়ে সাধারণ যৌনবাহিত সংক্রমণগুলোর একটি। এর ২০০টিরও বেশি ধরন রয়েছে, যার মধ্যে ১৪টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এবং ক্যান্সার সৃষ্টিকারী। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংক্রমণ দুই বছরের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে সেরে গেলেও দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ ক্যান্সার কারণ হতে পারে।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে সাধারণ নারীদের মধ্যে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এইচপিভির প্রাদুর্ভাব ৪ দশমিক ২ শতাংশ। উপকূলীয় অঞ্চলে এ হার ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং হাসপাতালভিত্তিক গবেষণায় শহর ও গ্রামের নারীদের মধ্যে এ হার ৩ দশমিক ৬ শতাংশ পাওয়া গেছে।

আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের লিড অধ্যাপক ডা. কামরুন নাহার বলেন, তাদের লক্ষ্য এইচপিভি-সংক্রান্ত রোগমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এ জন্য টিকাদান, স্ক্রিনিং, গবেষণা, তথ্য-প্রমাণভিত্তিক নীতি ও অংশীজনদের সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করা হবে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী বলেন, বর্তমানে কেবল নির্দিষ্ট বয়সী মেয়েদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। তিনি ১১ থেকে ২১ বছর বয়সী কিশোরী ও তরুণীদের পাশাপাশি ছেলেদেরও টিকার আওতায় আনার বিষয়ে বিবেচনার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৯ হাজার নারী জরায়ুমুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় প্রায় অর্ধেকের মৃত্যু হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘৯০-৭০-৯০’লক্ষ্যমাত্রা অর্জন জরুরি।

অবস্ট্রেটিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সভাপতি অধ্যাপক সাবেরা খাতুন বলেন, জরায়ুমুখের ক্যানসারের সঙ্গে এইচপিভির সম্পর্ক আবিষ্কারের পর থেকেই এ ভাইরাস প্রতিরোধে টিকার গুরুত্ব বেড়ে যায়। বাংলাদেশেও এইচপিভি টিকা নিয়ে গবেষণার কাজ অনেক আগে শুরু হয়েছিল। এখন আমাদের দুইটা দাবি কিশোর কিশোরীদের টিকার আওতায় আনা। দুই ডিএনএভিত্তিক পরীক্ষা এবং সেলফ-টেস্টিং পদ্ধতি চালুর ব্যবস্থা করা।

বিএমইউর উপ- উপচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশে গত ২ বছরে প্রায় ১৮ হাজার এইচপিভি আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গত দুই বছরেই শনাক্ত হয়েছে প্রায় ৪ হাজার রোগী। আক্রান্তদের মধ্যে অনেকের বয়স কম এবং অনেকে অবিবাহিত হওয়ায় বিষয়টি উদ্বেগজনক।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন