ছাগলকাণ্ডের ধাক্কা, এবার পরিচয় গোপন করছেন বড় পশুর ক্রেতারা

Mahmudul Hassan Aashik
মাহমুদুল হাসান আশিক

ছাগলকাণ্ডের ধাক্কা, এবার পরিচয় গোপন করছেন বড় পশুর ক্রেতারা

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে পশুরহাট। তবে এবারের হাটে একটি ভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বড় অঙ্কের টাকায় গরু ও ছাগল কিনলেও নিজেদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করতে চরম অনীহা দেখাচ্ছেন ক্রেতারা। সাংবাদিকদের দেখলেই এড়িয়ে যাওয়া কিংবা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠার ঘটনাও ঘটছে। এবারের রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ি পশুর হাটে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

গত রোববার দিয়াবাড়ী হাটে থাকা নাছির এগ্রো ফার্মের ব্রাহামা জাতের গরু ‘সুলতান ভাই’ সাড়ে আট লাখ টাকায় কিনেছেন এক ক্রেতা। একই দিনে তিনি কাশ্মীর থেকে আনা বিশাল দেহের ও লম্বা পশমের দেখতে খুবই সুন্দর লাদাখি জাতের খাসি ‘সুলতান’ ক্রয় করেন। কিন্তু এ ক্রেতা তার পরিচয় গোপন করেন।

বিজ্ঞাপন

তবে কেনার পর সুলতান ভাই নামক পশুটিকে সঙ্গে সঙ্গে নেয়নি ওই ক্রেতা। দীর্ঘ সময় প্রতিবেদক সেখানে অপেক্ষা করলেও ক্রেতাকে পাওয়া যায়নি। পরে ফার্মের ডিরেক্টর জাহাঙ্গীর খানের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, তার কাছেও ওই ক্রেতা তার নাম-পরিচয় জানাননি। কেনার অনেক পরে তিনি পশু দুটিকে নিয়ে যান।

মঙ্গলবার দিয়াবাড়ী হাটে তুলনামূলক কম দামে বড় গরু বিক্রি হতে দেখা গেছে। সেখান থেকেই তিন লাখ টাকায় একটি আকর্ষণীয় শাহীওয়াল ক্রস জাতের গরু কিনেন তৌফিক রহমান নামের এক ক্রেতা। বাজার দর অনুযায়ী গরুটির দাম বেশ কম হয়েছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

তবে বিপত্তি ঘটে তার সাথে থাকা মামার পরিচয় জানতে চাইলে। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তার নাম জানতে চাওয়া হলে তিনি নাম বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তাদের পেশা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কিছুটা এড়িয়ে যাওয়ার ভঙ্গিতে বলেন, আমরা বাইরে থাকি। আর এতো ইনফরমেশন জানাতে চাই না।

একই হাটের নাছির এগ্রো ফার্ম থেকে তিন লাখের চেয়ে বেশি দামে আরেকটি বড় গরু কেনেন অন্য এক ক্রেতা। তখন স্বাভাবিকভাবেই বড় পশুর ক্রেতার নাম ও পরিচয় জানতে চান প্রতিবেদক। কিন্তু প্রশ্ন করতেই রীতিমতো রেগে যান ওই ব্যক্তি। অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি প্রতিবেদকের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি সাংবাদিক, আপনার হাটে কাজ কী? আমি গরু কিনেছি, দরদামের সময় তো আপনি দেখলেনই। এরপর আবার কথা বলছেন কেন? এতো কিছু জেনে আপনার কাজ কী? আপনারাতো উল্টাপাল্টা কাজ করেন। পরে আবার কোনো বিপদে ফালান আমাকে। আমি কোনো ঝামেলায় যেতে চাই না। পরে অবশ্য নাম প্রকাশ না করলেও তিনি জানান তিনি একজন ব্যবসায়ী।

এ সময় তার সাথে থাকা তার ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সি ছেলের নাম জানতে চাইলেও তিনি নাম বলতে বাধা দেন তাকে।

বড় পশুর ক্রেতারা কেন নাম প্রকাশ করছেন না সে বিষয়ে আলাপ করলে খামারি জাহাঙ্গীর খান বলেন, কিছুদিন আগে একবার বড় ছাগল কিনে কট খাইছে না মতিউর? সেরকমই যদি আবার প্যাচে পড়ে সেজন্য তারা আসলে নাম পরিচয় হয়ত দিতে চাচ্ছে না। যেহেতু নাম প্রকাশ করছে না তার মানে ঝামেলা তো কিছু আছেই। একটা হলো নিরাপত্তার আতঙ্ক। আর অপরটি হলো যদি তার কোনো দুর্নীতি থেকে থাকে তবে সেটা ধরা পড়বে। সেজন্য এধরণের ক্রেতারা এখন একটু সাবধান থাকে।

আরেক বেপারী শেরপুরের আব্দুল কুদ্দুস বলেন, বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে গরু কেনার পর সাধারণত ক্রেতাদের মাঝে এক ধরনের আনন্দ ও গর্বের ভাব থাকে। কিন্তু এবার উল্টো কিছু কিছু ক্রেতারা নিজেদের আড়াল করতে চাইছেন। কোনো কোনো ক্রেতা অতিরিক্ত ট্যাক্স বা আয়ের উৎস নিয়ে নানা জবাবদিহিতা এড়াতে হয়ত নাম পরিচয় গোপন করছেন।

এএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...