সংসদে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

গুজব-অপপ্রচারকারীদের সাইবার আইনে অন্তর্ভুক্তি হচ্ছে

সংসদ রিপোর্টার

গুজব-অপপ্রচারকারীদের সাইবার আইনে অন্তর্ভুক্তি হচ্ছে

গুজব ও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সাইবার সুরক্ষা আইনে অন্তর্ভুক্তি করার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে বলে সংসদের জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইক আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচার, গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন আইনগত, প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

বিজ্ঞাপন

ওই সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিটিআরসি থেকে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক প্রভৃতি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে ক্ষতিকর, ভুয়া ও গুজব কনটেন্ট অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করে ভুয়া আইডি শনাক্তকরণ, সাইবার অপরাধ তদন্ত এবং অপপ্রচারকারীদের শনাক্ত করার কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল পরিবেশে নিশ্চিত করতে সরকার আইনগত কাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপপ্রচার ও অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে।

যশোর-৪ আসনের গোলাম রছুলের প্রশ্নের জবাবে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বিটিআরসি কর্তৃক সাইবার সুরক্ষা আইন অনুযায়ী জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি বা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা বা গোয়েন্দা সংস্থার অনুরোধের প্রেক্ষিতে আপত্তিকর তথ্য উপাত্ত বা সাইট অপসারণ বা ব্লক করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বা অপারেটরদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য বিটিআরসি’র নিজস্ব কোনো প্রযুক্তি যন্ত্রপাতি নেই। মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা বন্ধে বিটিআরসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস ব্যবহারকারীদের নিবন্ধনের সঠিকতা যাচাই ও নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার কার্যক্রম চলছে। মন্ত্রী বলেন, মোবাইল সিম নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরও সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ফেশিয়াল রিকগনিশনভিত্তিক যাচাইকরণ পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

চার মোবাইল কোম্পানির কাছে পাওনা ১৩ হাজার কোটি টাকা কক্সবাজার-৩ আসনের সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে চারটি মোবাইল অপারেটরের কাছে সরকারের ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা রাজস্ব পাওনা রয়েছে। তিনি জানান, টেলিটকের কাছে পাঁচ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা, গ্রামীণফোনের ছয় হাজার ১০২ কোটি টাকা, রবি আজিয়াটার ৬১৫ কোটি টাকা এবং বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনসের কাছে ৪৭৩ কোটি টাকা রাজস্ব বকেয়া রয়েছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, টেলিটকের কাছে লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ারিং, স্পেকট্রাম ফি, প্রশাসনিক জরিমানা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল বাবদ ৫ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা বকেয়া আছে। টেলিটক কর্তৃক ৫ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা ইকুইটি কনভার্সনের আবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন রয়েছে। গ্রামীণফোনের বকেয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ইনফরমেশন সিস্টেম অডিট আপত্তি বাবদ বিটিআরসির মোট পাওনা ৮ হাজার ৪৯৪ কোটি ১ লাখ টাকা। আদালতের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে দুই কিস্তিতে মোট ২ হাজার ৩৯২ কোটি ১৯ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। বর্তমানে বকেয়া ৬ হাজার ১০১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। রবির বিষয়ে তিনি জানান, ইনফরমেশন সিস্টেম অডিট আপত্তি ও পরিশোধিত রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের উপর মূসক বাবদ বিটিআরসির মোট পাওনা ৬৭৮ কোটি টাকা। আদালতের নির্দেশে রবি আজিয়াটা ৫ কিস্তিতে ১৮৮ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। বাকি টাকা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। বাংলালিংকের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ইনফরমেশন সিস্টেম অডিট আপত্তি ও পরিশোধিত রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের উপর মূসক বাবদ বিটিআরসির মোট পাওনা ৪৭৩ কোটি টাকা। মোট ৩৮১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। বাকি টাকা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

ঢাকা-১৯ আসনের দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, বিটিসিএল-র বর্তমানে টেলিফোন গ্রাহকের সংখ্যা ৩ লাখ ৪০ হাজার। কুমিল্লা-৪ আসনের সদস্য মো. আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ এর বাণিজ্যিক ব্যবহারের মাধ্যমে ৭৬৪ কোটি ১০ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। ১৬৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা নিট মুনাফা করেছে।

এএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...