আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

শহীদ জিয়া: ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ, আদর্শের রূপকার

অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান

শহীদ জিয়া: ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ, আদর্শের রূপকার
অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান

যার জন্ম ইতিহাস পড়ার জন্য নয়, হয়েছিল ইতিহাস সৃষ্টি করার জন্য। যার জীবন কেবল বেঁচে থাকার জন্য নয়, দেশের জন্য বিলিয়ে দেওয়ার জন্য। যার ভালোবাসা নিজ কিংবা শুধু পরিবারের জন্য নয়, ছড়িয়ে পড়েছিল ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের মাটি-মানুষ, নদী-নালা, হাওর-বিল, পাহাড়-সমুদ্র আর তরুলতার ওপর—তিনিই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। যিনি বলেছিলেন, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ’। তার সেই কালজয়ী উক্তি আজ বিশেষ করে মনে পড়ে বিএনপির নির্বাচনমুখী প্রচারণা দেখে। তারই পবিত্র রক্তবাহী বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শিরোনামে যে ধারণা ইতিমধ্যে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন, সেটি তো তার মরহুম পিতা শহীদ জিয়ারই মতাদর্শ। তাই প্রেসিডেন্ট জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ এই লেখায় এই প্রসঙ্গটি না টেনে পারা গেল না।

বিজ্ঞাপন

মেজর জিয়া। বাংলাদেশের অভ্যুদয় থেকে শুরু করে এর স্থিতিশীলতা, অতঃপর আধুনিকতার পথে যাত্রা—সবখানেই এই নামটি জড়িয়ে রয়েছে। একাত্তরে তিনি যদি বিদ্রোহ ঘোষণা করে স্বাধীনতার ঘোষণা না দিতেন, তাহলে স্বাধীনতা পেতে হয়তো আমাদের আরো দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হতো। তার সেই ঐতিহাসিক ‘উই রিভোল্ট’ আজ একটি নতুন বাংলাদেশের সৃষ্টি। ৫৪ বছরের বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে, একটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তা নিয়ে যে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে সামনের দিকে এবং বিশ্বের বুকে গড়ে তুলেছে তার নিজস্ব পরিচয়।

২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং পরদিন মহান স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে আধুনিক ও উৎপাদনমুখী বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনে জিয়ার অবদান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণোজ্জ্বল হয়ে থাকবে। জিয়ার সততা, দেশপ্রেম, দেশের কল্যাণ সাধনে একাগ্রতা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তা ছিল এক ঈর্ষণীয় বিষয়। এসব গুণাবলি তাকে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু জিয়ার এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা বাংলাদেশবিরোধী শক্তির সহ্য হয়নি। তাই আধিপত্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্রে দেশি-বিদেশি যোগসাজশে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে কতিপয় বেপথু সৈন্যের হাতে জিয়া শাহাদাতবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল মাত্র ৪৬ বছর।

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি এই মহান নেতা জন্মগ্রহণ করেন। ক্ষণকালের অথচ বর্ণিল এই জীবনে জিয়া এ দেশের মানুষের জন্য যে আত্মত্যাগ করেছেন, মানুষের কল্যাণ সাধনে যেভাবে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে নিরলস ছুটে বেড়িয়েছেন, তাতে তার দেশপ্রেমের পূর্ণ পরিচয় মেলে। পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা, মহান স্বাধীনতার ঘোষণা, সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ‘জনতার জিয়া’য় রূপান্তর, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ দর্শনের প্রবর্তন, আধুনিক ও উৎপাদনমুখী বাংলাদেশ গড়ার ম্যানিফেস্টো তথা ১৯ দফা রচনার মতো ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে জিয়া এ দেশের জনতার মাঝে চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন।

মুজিব আমলের দুঃশাসনসৃষ্ট ভঙ্গুর অর্থনীতি ও পরবর্তী নাজুক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামলে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে আসা ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। কিন্তু আজন্ম লড়াকু জিয়া সেই চ্যালেঞ্জ নিলেন। উৎপাদনমুখী রাজনীতির সূচনার মাধ্যমে জিয়া পূর্বেকার শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক পদদলিত করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুনরায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলেন। সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে, বিপদসংকুল পথ মাড়িয়ে তিনি একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার প্রতিজ্ঞা করলেন।

একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে জিয়াউর রহমান গ্রামমুখী অর্থনীতির ওপর জোর দেন। উপসামরিক আইন প্রশাসক থাকাকালে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। গ্রামমুখী অর্থনীতি গড়ার আহ্বান জানিয়ে জিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশ অর্থ গ্রাম। বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য আমাদের গ্রাম ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন করতে হবে।’ গ্রামীণ জনজীবনের সার্বিক উন্নতির প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, ‘গ্রামের নিরক্ষর ও দরিদ্র মানুষের দ্বারে আমাদের সভ্যতার বাণী নিয়ে যেতে হবে। তাহলেই বলতে পারব যে, বাংলাদেশের উন্নতির জন্য আমরা কাজ করেছি।’

খালখনন কর্মসূচি ছিল জিয়ার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে জিয়াউর রহমান যশোরের উলশি-যদুনাথপুর খাল খনন প্রকল্প হাতে নেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের কৃষিভিত্তিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় সেচের পানির অপ্রতুলতা দূর করতে দেশব্যাপী ১৪ হাজার খাল খনন করা হয়।

শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে জিয়াউর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতা উল্লেখযোগ্য। সময়োপযোগী অন্তর্বর্তী শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য ১৯৭৮ সালে প্রফেসর মুস্তফা বিন কাসিমের নেতৃত্বে তিনি একটি জাতীয় শিক্ষা উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেন। উৎপাদনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর শহীদ জিয়া ঢাকায় একটি ‘জাতীয় শিক্ষা ওয়ার্কশপ’ আয়োজন করেন। এতে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত সারাদেশ থেকে হাজার হাজার শিক্ষাকর্মী ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞ উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার প্রসারে গ্রন্থাগারকে গুরুত্ব দিয়ে ১৯৮০–৮১ অর্থবছরে ‘থানা পাবলিক লাইব্রেরি কাম অডিটোরিয়াম স্থাপন’ শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন ঘোষণাপত্রের ২১ নম্বর ধারায় বাংলাদেশে একটি গণমুখী ও জীবননির্ভর শিক্ষা কার্যক্রম চালুর প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছিল। গণশিক্ষা কার্যক্রম ও সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় জিয়াউর রহমানের অভূতপূর্ব সংযোজন। মাদ্রাসা শিক্ষার বহুমুখী উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালে মাদ্রাসা শিক্ষা অধ্যাদেশ বলে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। যুগের চাহিদা এবং জাতীয় ঐতিহ্য ও প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমন্বিত উপায়ে ইসলামি ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে দেশে একটি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর কুষ্টিয়া ও যশোরের সীমান্তবর্তী শান্তিডাঙ্গায় তিনি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯৮০ সালে জাতীয় সংসদে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করা হয়।

শিক্ষার পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি জিয়াউর রহমানের প্রবল আগ্রহ ও অনুরাগ ছিল। ১৯৭৬ সালে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি প্রথমবারের মতো ‘একুশে পদক’ প্রবর্তন করেন। ১৯৭৭ সালে শহীদ জিয়া প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ‘স্বাধীনতা পদক’ প্রবর্তন করেন। এছাড়াও ১৯৭৯ সালের ৯ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার–১৯৭৭’ প্রদান করা হয়। জিয়ার আগ্রহেই ১৯৮১ সালের মার্চ–এপ্রিলে ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা একাডেমির উন্নয়নে তার আমলে ‘বাংলা একাডেমি অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৮’ জারি করা হয়।

শিশুর সুপ্ত মেধার সৃজনশীল বিকাশে শহীদ জিয়ার অবদান অসামান্য। তিনি ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯৭৭ সালের ১৫ জুলাই পুরোনো হাইকোর্ট ভবনের পশ্চিম পার্শ্বে শিশু একাডেমির নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন। শিশুদের বিনোদনের লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালে শাহবাগে জাতীয় শিশুপার্ক স্থাপন করা হয়। এছাড়া শিশুদের সাংস্কৃতিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করতে ১৯৭৬ সালে তার উদ্যোগে টেলিভিশনে ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

প্রেসিডেন্ট জিয়া উপজাতীয় সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার-প্রসারে রাঙামাটিতে ‘উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট’ (বর্তমান নাম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট) এবং নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বিরিশিরিতে ‘উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও চারটি বিভাগীয় শহরে তিনি ইসলামি সংস্কৃতি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।

মুজিব শাসনামলে গণমাধ্যমের ওপর যে খড়গ নেমে এসেছিল, জিয়া সে অবস্থান থেকে উত্তরণে প্রয়াসী হন। তিনি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন। সাংবাদিকদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) তারই চিন্তার ফসল। স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য প্রণীত আইন বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে তিনি ‘বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল’ প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে যেখানে জাতীয় প্রেসক্লাবের অবস্থান, সেই জায়গাটি প্রেসিডেন্ট জিয়াই বরাদ্দ দিয়েছিলেন।

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানও অসামান্য। ৫০ শয্যার ক্যানসার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, পিজি হাসপাতালের সি-ব্লক, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটসহ চিকিৎসকদের জাতীয় প্রতিষ্ঠান বিএমএ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। ১৯৭৮ সালে তিনি কলেরা (আইসিডিডিআরবি) হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। দক্ষ নার্স তৈরির লক্ষ্যে ১৯৮১ সালের ৫ জানুয়ারি মহাখালীতে নার্সিং কলেজ এবং একই বছরের ৩ এপ্রিল জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। তার প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় নিপসম, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও ইপিআই প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রেসিডেন্ট জিয়া এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসেন। পাশ্চাত্যের কাছে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে আখ্যায়িত বাংলাদেশের হৃত গৌরব তিনি পুনরুদ্ধার করেন। তার গৃহীত স্বাধীন ও সার্বভৌম মর্যাদাসম্পন্ন পররাষ্ট্র দর্শনের ফলে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়। জিয়ার পররাষ্ট্রনীতির মূলকথা ছিল জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখা এবং সার্বভৌম মর্যাদা সমুন্নত রেখে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।

এই আত্মমর্যাদাশীল নেতৃত্বের ফলেই তিনি তৃতীয় বিশ্বের একজন আস্থাভাজন নেতায় পরিণত হন। ইরান-ইরাক যুদ্ধ নিরসনে তিনি বলিষ্ঠ কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করেন। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন জিয়াউর রহমান। ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টনে ফারাক্কা চুক্তি, তিন বিঘা করিডোর হস্তান্তরের রূপরেখা প্রস্তুত, দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের মালিকানা নির্ধারণে যৌথ জরিপ ও আলোচনার মাধ্যমে তিনি সার্বভৌম মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক স্থাপনে সচেষ্ট ছিলেন। মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে তিনি বিশেষ উদ্যোগ নেন, যার ফলে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ ও আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি. মাইলাম শহীদ জিয়ার শাহাদাতের পর বলেছিলেন, ‘কল্পনা করাও কঠিন যে, জিয়া যদি ১৯৮১ সালের পরিবর্তে ১৯৭৫ সালে নিহত হতেন, তাহলে বাংলাদেশের ভাগ্যে কী ঘটত। বাংলাদেশ খুব সহজেই আফগানিস্তান বা লাইবেরিয়ার মতো একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারত। জিয়া সেই পরিণতি থেকে বাংলাদেশকে বাঁচিয়েছেন।’

আজ সেই ক্ষণজন্মা মহাপুরুষের জন্মদিন। ইতিহাস বলে, পৃথিবীর প্রায় সব মহাপুরুষই ছিলেন ক্ষণজন্মা। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও তেমনই একজন। তার শাহাদাতের পর বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই পথ হারায়। তবে আশার কথা, তারই উত্তরাধিকার বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান পিতার দেখানো পথেই হেঁটে চলেছেন। দেশ ও দেশের মানুষকে নিয়ে তার চিন্তা ও পরিকল্পনায় রয়েছে নিখাদ দেশপ্রেম ও দূরদর্শিতার ছোঁয়া। মা বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশপন্থী রাজনীতির এই ধারকই যে আগামী দিনের কাণ্ডারি—তা এখন আর ধারণা নয়, বরং এক অনিবার্য বাস্তবতা।

লেখক: গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, বিএনপি; সদস্য, বিএনপি মিডিয়া সেল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন