আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

পুলিশ হত্যার বিচার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম

মীমাংসিত বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি করলে জনগণ রাজপথে নামবে

স্টাফ রিপোর্টার

মীমাংসিত বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি করলে জনগণ রাজপথে নামবে

পুলিশ হত্যার বিচার প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, মীমাংসিত বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হলে জনগণ রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এনসিপির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশ হত্যার বিচারের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, একটা কথা শোনা হচ্ছে যে পুলিশ হত্যার তদন্ত নাকি আবার করা হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সেই যে যুদ্ধ পরিস্থিতি... যদি বিচার নিশ্চিত করতে হয় অবশ্যই আগে যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জুলাই যোদ্ধা, যারা আহত হয়েছে, শহীদ হয়েছে- তাদের বিচার আগে নিশ্চিত করতে হবে। এই অপরাধের জন্য, এই গণহত্যা সংঘটিত করার জন্য আমরা সমগ্র পুলিশ বাহিনীকে কাঠগড়ায় দাড় করাই নাই। আমরা বলেছি, যারা অভিযুক্ত ব্যক্তি শুধু তাদেরকে আমরা বিচারের আওতায় আনবো। বাকি পুলিশ বাহিনী যাতে সংস্কারের মধ্য দিয়ে জনগণের পক্ষের বাহিনী হিসেবে আবার কাজ করে। ফলে এই মীমাংসিত বিষয় নিয়ে যদি আবার বিতর্ক তৈরি করা হয় তাহলে জনগণ বাধ্য হবে রাজপথে নামতে।

বিজ্ঞাপন

ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ কিছু বিষয়ে বর্তমান সরকার বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই আচরণ করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে নতুন কোন স্বৈরতন্ত্রের উত্থান আমরা ঘটতে দেব না। উত্থান ঘটতে হলে আমাদের জীবনের উপর দিয়ে সেটা হতে হবে। সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হতেই হবে। যদি সংসদে না হয় সেই লড়াই রাজপথে গড়াবে। আমরা সেই লড়াই রাজপথে গড়াতে চাই না। আমরা চাই মানুষ ভোট দিয়েছে, যেরকমই ফলাফল হয়েছে, আমরা সেটা আপাতকালীন এক্সেপ্ট (মেনে) করে সংসদে গিয়েছি। সংসদে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে আমরা এগুলার সমাধান করব। কিন্তু সংসদ অবশ্যই সংস্কার পরিষদ হতে হবে। যদি সংসদ সংস্কার পরিষদ না হয় সংসদে যদি কথা বলার জায়গা না থাকে তাহলে সেই লড়াই রাজপথে গড়াবে।

এনসিপি রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে দলটির প্রধান নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরাও রাজপথের প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি। আমরা খুবই স্পষ্টভাবে বলব, ট্রাইব্যুনালে যাতে কোন ধরনের আর কোন হস্তক্ষেপ না করা হয়। ট্রাইব্যুনাল যাতে নিরপেক্ষভাবে সুষ্ঠ বিচারের পথে চলে। ভুক্তোভোগী এবং স্বাক্ষদানকারীদের নিরাপত্তা দিতে হবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারে হস্তক্ষেপ হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, তারা (সরকার) বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করল। তারা কোন কারণ ছাড়াই কোন অভিযোগ ছাড়াই ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটরকে সরিয়ে দিল। এবং বিচারে নানা ধরনের হস্তক্ষেপের কথা আমরা শুনতে পাচ্ছি। যারা ভিকটিম (ভুক্তভোগী) ছিল, যারা সাক্ষ্য দিয়েছে, তাদেরকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তারা নানা হুমকির মুখে আছে। ফলে আমরা সন্ধিহান যে বিচার প্রক্রিয়াও সুষ্ঠভাবে এই সরকারের আমলে হবে কিনা। সেটা নিয়ে আমাদের মনে, জনগণের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

ছাত্রদের দাবির তোয়াক্কা না করে সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে— এমন অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের যে দাবিগুলো ছিল সংস্কার, বিচার, অর্থনৈতিক লুটপাটের বিচার, ফ্যাসিবাদ এবং আধিপত্যবাদের কবর রচনা করা- সেই সবকিছুকে তোয়াক্কা না করে যারা সরকার দলে রয়েছে, তারা জনগণের বিরুদ্ধে আবার অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে। শপথের প্রথম দিন আমরা দেখলাম, তারা (বিএনপি) সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন না। সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ গ্রহণ না করে গণভোটে গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিল।

এনসিপির নেতারা সারাদেশে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলবেন জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা আবারও শীঘ্রই সারাদেশে যাব। এনসিপির পক্ষ থেকে আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলবো। কারণ আমরা মনে করি, এনসিপির জার্নিটাই (পথচলা) হয়েছে ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ছাত্ররাই হচ্ছে আমাদের এই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি। এনসিপির মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে ছাত্ররা।

জাতীয় ছাত্রশক্তির সঙ্গে একযোগে এনসিপি কাজ করবে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতীয় ছাত্রশক্তির সঙ্গে এনসিপি একত্রে আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব, যে দায়িত্ব দেশের জনগণ দিয়েছে, সে দায়িত্ব মেনে সামনের দিকে আগাবো।

বাংলাদেশের সংকটে বারবার ছাত্ররা এগিয়ে এলেও তারা প্রতারিত হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বারবার যখন সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে, রাষ্ট্রের পক্ষে এসে দাঁড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা, স্কুল কলেজ মাদ্রাসার ছাত্ররা। কিন্তু বারবার ছাত্রদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্ররাই সম্মুখ সারীতে থেকে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পরে এদেশের রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্র সমাজের সঙ্গে প্রতারণা করেছিল। আমরা একই জিনিস দেখতে পাচ্ছি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানেও। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান করেছে ছাত্ররা, জীবন দিয়েছে সাধারণ মানুষ। কিন্তু এখন তার ফল ভোগ করছে নানান রাজনৈতিক শক্তি।

মব তৈরি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নির্লজ্জভাবে, অগণতান্ত্রিকভাবে সরিয়ে দিয়ে একজন ঋণখেলাপীকে সেই পদে বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ।

নাহিদ ইসলাম ছাত্রশক্তির নেতাদের উদ্দেশে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যাতে আবারো স্বৈরতন্ত্রের আঁতুরঘরে পরিণত না হয়, হলগুলো যাতে আবারো গণরুম, গেস্টরুমে পরিণত হতে না পারে সেটার দায়িত্ব জাতীয় ছাত্রশক্তির। জাতীয় ছাত্রশক্তি গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী সমাজের পাশে তাদের অধিকারের পক্ষে থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে যাতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকে, কথা বলার অধিকার থাকে- সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব জাতীয় ছাত্রশক্তির।

এদিন বিকালে কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি জাহিদ আহসান, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ এনসিপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...