ব্যাংকিং খাত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে: সংসদে এমপি মিলন

স্টাফ রিপোর্টার

ব্যাংকিং খাত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে: সংসদে এমপি মিলন

দেশের ব্যাংকিং খাত সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ক্ষেত্রেই সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১২ আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন।

এছাড়া ব্যাংকিং খাতের ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ, সরকারের ঋণের বোঝা, রাজস্ব ঘাটতি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দুর্বলতা, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, চাঁদাবাজি এবং রাজধানীর নাগরিক সমস্যাগুলোকে দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তার মতে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রাজস্ব আদায় বাড়ানো, পরিচালন ব্যয় কমানো, রাষ্ট্রীয় লোকসানি প্রতিষ্ঠান পুনর্মূল্যায়ন, ক্যাপাসিটি চার্জ ও ব্যাংক খাতের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন জরুরি।

শনিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ১৬তম দিনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার উদ্বেগজনক এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার ৩০ দশমিক ১৭ শতাংশে পৌঁছেছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা।

সরকারি ঋণের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৫০ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ১৭৩ কোটি টাকার সমান। আগামী অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের সুদ বাবদ প্রায় ১৯০ কোটি ডলার বা প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা এবং আসল বাবদ ৩৩৯ কোটি ডলার বা প্রায় ৪১ থেকে ৪৯ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, দেশে এমন অনেক রাষ্ট্রীয় করপোরেশন রয়েছে, যেগুলো বছরের পর বছর লোকসান গুনছে। দীর্ঘদিন ধরে লোকসানি প্রতিষ্ঠান বহন করার পরিবর্তে সেগুলো পুনর্মূল্যায়নের সময় এসেছে।

বাজেটে রাজস্ব আহরণের বিষয়ে মিলন বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু আগের বছরের আদায়ের সঙ্গে তুলনা করলে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকার ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে কার্যকর বাজেট ঘাটতি প্রায় পাঁচ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে, যা মোট বাজেটের প্রায় অর্ধেক। বিষয়টিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। এত বড় পরিচালন ব্যয় কমানোর বিষয়ে সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।

এডিপি বাস্তবায়নের দুর্বলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৯৪ শতাংশ। পরবর্তী বছরগুলোতে তা ধারাবাহিকভাবে কমে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেকর্ড সর্বনিম্ন ৬৮ শতাংশে নেমে এসেছে। যে উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নই করা যায় না, সেই বাজেটের সুফল জনগণ পায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, অর্থবছর পরিবর্তনের বিষয়ে সংসদে প্রায় সবাই একমত হয়েছেন। তাই দেশের আর্থিক বছর পরিবর্তনের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে পারে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন অপরিহার্য। সাম্প্রতিক বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ এবং সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের ঘোষিত সংস্কার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছে। এখন জনগণ সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চায়। বিশেষ করে গণভোটে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্যের ছেলেও চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন, যা প্রমাণ করে সরকার চাইলে ব্যবস্থা নিতে পারে।

রাজধানীর নাগরিক দুর্ভোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, অল্প বৃষ্টিতেই ঢাকার রাস্তায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়।

ঢাকায় বিশুদ্ধ পানি ও গ্যাস সংকটের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন