জনতার দলের আলোচনা সভায় বক্তারা

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের নাকগলানো মেনে নেওয়া হবে না

স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের নাকগলানো মেনে নেওয়া হবে না

‘সীমান্তে ভারতীয় আগ্রাসন ও পানিসন্ত্রাস’ বিষয়ক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের আমলের দুর্বল ও তাঁবেদারি পররাষ্ট্রনীতির কারণে দেশ আজও সংকটে রয়েছে। এ জন্য ভারতের দাসত্বের মানসিকতা থেকে বের হয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে এগিয়ে নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তারা। একই সঙ্গে আগামীতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের নাকগলানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তারা।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘সীমান্তে ভারতীয় আগ্রাসন ও পানিসন্ত্রাস’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জনতার দল। আলোচনা সভায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দলটির শীর্ষ নেতারা তাদের উদ্বেগ তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

দেশের সীমান্ত সুরক্ষার ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করে সভায় বক্তারা বলেন, এই অবৈধ পুশইন ও সীমান্ত আগ্রাসন মোকাবিলায় প্রতিটি বাংলাদেশির জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার। এ বিষয়ে তারা সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

অনুষ্ঠান শেষে জুলাই বিপ্লবের সম্মুখ সারির যোদ্ধা মো. ফুয়াদ সাকীর নেতৃত্বে ‘তিন শতাধিক নতুন নেতা-কর্মী’ আনুষ্ঠানিকভাবে জনতার দলে যোগদান করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জনতার দলের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার (অব.) শামীম কামাল অতীতের ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ওপর ভারতের অমানবিক জল-রাজনীতির তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, খরা ও অনাবৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের কৃষি খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। গঙ্গা ও তিস্তা চুক্তিসহ ভারতের এই একতরফা পানিসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হতে হবে।

দলের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খান ভারতীয় আগ্রাসন ও অবৈধ পুশইনের কঠোর সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার সঙ্গে ঘটে যাওয়া অসৌজন্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান তিনি।

সভায় দলের জ্যেষ্ঠ কৌশলগত ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সাব্বির আহমেদ দেশের সার্বভৌমত্ব ও সার্বিক সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রকৃত দেশপ্রেমিক হতে হলে শুধু পাসপোর্টে নয়, বরং মন-মনন, মগজ ও চিন্তায় খাঁটি বাংলাদেশি হতে হবে।

নৈতিক কমিটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মাহবুবুল আলম বলেন, একটি শক্তিশালী ও আদর্শবান জাতি গঠনে নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জনতার দলের মুখপাত্র ও সাংগঠনিক সম্পাদক মেজর (অব.) ডেল এইচ খান, যুগ্ম মহাসচিব মেজর (অব.) জাকির হোসেন, প্রবীণ সাংবাদিক জাহাঙ্গীর চৌধুরী, বিশিষ্ট আইনজীবী ও বাংলাদেশ মঞ্চের উপদেষ্টা পারভীন সুলতানা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে অংশ নেন ক্যাপ্টেন রেদওয়ান শিকদার, জাহান আরা আবেদিন, আফসানা মনা, বিশিষ্ট কৃষিবিদ শেখ মামুন, শাহাবুদ্দিন ফরাজী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক শাহানুর রহমান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...