গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগেই নকআউট নিশ্চিত হয়েছিল ইংল্যান্ডের। তবে ‘এল’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করতে পানামার বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না থমাস টুখেলের দলের। রক্ষণভাগে শক্ত প্রাচীর গড়ে শুরুতে ইংল্যান্ডকে ভোগালেও শেষ পর্যন্ত জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনের জোড়া আঘাত সামলাতে পারেনি মধ্য আমেরিকার দলটি। ২-০ গোলের জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই রাউন্ড অব ৩২-এ পা রাখল থ্রি লায়ন্সরা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও গোলের দেখা পায়নি ইংল্যান্ড। বলের দখল ও সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে থেকেও পানামার জমাট রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হন কেইন, বেলিংহাম, বুকায়ো সাকা ও মার্কাস রাশফোর্ডরা।
২৭ মিনিটে পানামার হোসে লুইস রদ্রিগেজের জোরালো শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। পাল্টা আক্রমণে সাকা কয়েকবার বিপজ্জনক অবস্থানে পৌঁছালেও শেষ মুহূর্তে শট নিতে পারেননি। ৩৩ মিনিটে ও’রাইলির হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর রাশফোর্ড ও বেলিংহামের প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয় পানামার গোলরক্ষকের দৃঢ়তায়।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে কেইনকে ফাউল করলে বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি-কিক পায় ইংল্যান্ড। কিন্তু রাশফোর্ডের দারুণ শটও পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। ৫২ মিনিটে রাশফোর্ডের নিখুঁত ক্রস থেকে নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি কেইন। তবে সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
৬২ মিনিটে সাকার কর্নার থেকে বক্সে আসা বল সাইড ভলিতে জালে জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন জুড বেলিংহাম। গোলের পরপরই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল পানামা। কিন্তু ফাঁকা গোল পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি হোসে লুইস হার্ভে।
সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার মূল্য দিতে হয় পানামাকে। ৬৭ মিনিটে বাম দিক দিয়ে বেলিংহামের দারুণ ক্রস থেকে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। এই গোলেই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন ইতিহাস গড়েন তিনি। ১১তম বিশ্বকাপ গোল করে ভেঙে দেন গ্যারি লিনেকারের ১০ গোলের দীর্ঘদিনের রেকর্ড।
শুধু গোলই নয়, ম্যাচের দুই গোলেই অবদান রেখে আরেকটি কীর্তিও গড়েছেন বেলিংহাম। ২২ বছর ৩৬৩ দিন বয়সে তিনি ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে একই ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হয়েছেন।
এই জয়ে তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হিসেবে পরের পর্বে উঠেছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে তিন ম্যাচেই হেরে শূন্য পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে পানামা। কোনো গোল করতে না পেরে গত ১৬ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে গোলশূন্য বিদায় নেওয়া প্রথম দল হিসেবেও অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ড গড়েছে তারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

