খেলোয়াড়দের সঙ্গে একমত নন, কৌশলেই ভুল দেখছেন নাগেলসমান

স্পোর্টস ডেস্ক

খেলোয়াড়দের সঙ্গে একমত নন, কৌশলেই ভুল দেখছেন নাগেলসমান

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে জার্মানি। তবে ম্যাচ শেষে পরাজয়ের কারণ নিয়ে নিজের দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে একেবারেই একমত নন জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান। তার মতে, কৌশলের ভুলেই হারতে হয়েছে।

নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুটা দারুণ করেছিল জার্মানি। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই লেরয় সানের গোলে এগিয়ে যায় তারা। যদিও গোলটি বিতর্কের জন্ম দেয়। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। অল্প সময়ের মধ্যেই ইকুয়েডরের নিলসন আঙ্গুলো সমতা ফেরান।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় ইকুয়েডর। শেষ দিকে গনসালো প্লাতার গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। এই জয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় ইকুয়েডর।

ম্যাচ শেষে জার্মান অধিনায়ক যোশুয়া কিমিখ বলেন, স্টেডিয়ামে ইকুয়েডরের সমর্থকদের দারুণ উপস্থিতি ছিল এবং প্রতিপক্ষের জয়ের ক্ষুধাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। তার ভাষায়, “আজকের পার্থক্য ছিল প্রতিপক্ষ আমাদের চেয়ে বেশি জিততে চেয়েছে। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে সেটা স্পষ্ট বোঝা গেছে। তাই তারাই প্রাপ্য জয় পেয়েছে।”

কিমিখের সুরে সুর মিলিয়েছেন মিডফিল্ডার জামাল মুসিয়ালাও। তিনি বলেন, “ইকুয়েডর হয়তো আমাদের চেয়ে বেশি ক্ষুধার্ত ছিল। তাদের খেলার তীব্রতা ও আগ্রাসন ছিল অনেক বেশি। এই হার থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। নকআউট পর্বে এমন ভুলের সুযোগ নেই।”

স্ট্রাইকার ডেনিজ উনদাভও একই মত প্রকাশ করেন। তার মতে, “আমার মনে হয়েছে, ওরা আমাদের চেয়ে বেশি জিততে চেয়েছে। তারা ছিল বেশি আক্রমণাত্মক ও তীক্ষ্ণ। আমরা যথেষ্ট সুযোগও তৈরি করতে পারিনি। সোমবার আবার ম্যাচ আছে, তাই দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে হবে।”

তবে উনদাভের এই মন্তব্যের সঙ্গে একেবারেই একমত নন কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান। সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “ইকুয়েডর আমাদের চেয়ে বেশি জিততে চেয়েছে? এটা সম্পূর্ণ বাজে কথা।”

নাগেলসমান মনে করেন, ম্যাচের শুরুটা জার্মানি দুর্দান্ত করলেও গোল করার পরই দল কৌশলগতভাবে ছন্দ হারিয়ে ফেলে। তিনি বলেন, “আমরা দারুণ শুরু করেছিলাম। কিন্তু গোল করার পরই নিজেদের অবস্থান ভুলে যেন কৌশলগত ভুল করেছি। এতে ম্যাচটা কঠিন হয়ে যায়।”

তিনি আরও যোগ করেন, “ইকুয়েডরের সামনে অনেক কিছু অর্জনের সুযোগ ছিল, সেটি তাদের খেলায় ফুটে উঠেছে। কিন্তু তাই বলে আমার কোনো খেলোয়াড় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেনি—এমনটা আমি বলতে পারি না। বিষয়টিকে এত সহজভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।”

যদিও এই হার জার্মানির গ্রুপ সেরা হওয়ার পথে কোনো প্রভাব ফেলেনি, তবু নকআউট পর্বের আগে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ভাবনার কারণ দেখছেন নাগেলসমান। তার মতে, সামনের কঠিন পরীক্ষার আগে ভুলগুলো দ্রুত শুধরে নেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিজ্ঞাপন
Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...