লালপুরে বিএনপিকর্মী ও ভাটা ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

উপজেলা প্রতিনিধি, লালপুর (নাটোর)

লালপুরে বিএনপিকর্মী ও ভাটা ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
ছবি: আমার দেশ

নাটোরের লালপুর উপজেলার জৌতদৈবকী এলাকায় এক বিএনপিকর্মী ও বিশিষ্ট ভাটা ব্যবসায়ী আব্দুল হালিমের বাড়িতে সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর, নারীদের মারধর এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এমএসবি ভাটার স্বত্বাধিকারী আব্দুল হালিম- দক্ষিণ লালপুর গ্রামের সানাউল্লার ছেলে সাকলাইনসহ ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

বিজ্ঞাপন

লিখিত এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববিরোধের জেরে শুক্রবার ভোররাতে দেশি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একদল দুর্বৃত্ত তার বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের মারধরের পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় বাড়িতে থাকা নারীদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয় এবং তাদের পরিহিত স্বর্ণালংকার জোরপূর্বক খুলে নেওয়া হয়। পরে ঘরের আলমারি ও ওয়ারড্রব ভেঙে নগদ ৩২ লাখ টাকা, প্রায় সাড়ে ১১ ভরি স্বর্ণালংকার, জমির গুরুত্বপূর্ণ দলিল, ব্যাংকের চেকবই, পাসপোর্টসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এছাড়া বাড়ির আসবাবপত্র ও অন্যান্য সম্পদে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, হামলাকারীরা চলে যাওয়ার আগে ভবিষ্যতে মামলা-মোকদ্দমা না করার জন্য তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

আব্দুল হালিম বলেন, “পরিকল্পিতভাবে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ ৩২ লক্ষ টাকা, সাড়ে ১১ ভরি স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করা হয়েছে। তিনি জানান, আমার পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন।

এ ব্যাপারে সাকলাইন জানান, এসব ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার স্ত্রী সুরাইয়া নাসরিন সীমার সঙ্গে তার (হালিমের) জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। সে দীর্ঘদিন ধরে আমার স্ত্রীর জমি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য তার বিরুদ্ধে লালপুর থানা ও ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া রয়েছে ।

এ বিষয়ে লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...