রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে প্রতিনিয়ত জাদুকরী ফুটবল উপহার দিলেও ব্রাজিলের হলুদ জার্সিতে বড় মঞ্চে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নিজেকে মেলে ধরতে পারছিলেন না- এমন সমালোচনা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল। তবে চলমান বিশ্বকাপে সমালোচকদের সে দাবিকে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে স্রেফ উড়িয়ে দিলেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ভিনিসিয়ুস নাম লিখিয়েছেন ব্রাজিলের একচেটিয়া এক অভিজাত ক্লাবে। পঞ্চম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের প্রতিটি ম্যাচেই গোল করার অনন্য কীর্তি গড়লেন তিনি। ২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের রোনালদো ও রিভালদোর পর আর কোনো ব্রাজিলিয়ান এ গৌরব অর্জন করতে পারেননি।
ম্যাচ শেষে স্বস্তি প্রকাশ করে ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘নিজের প্রতিভার ওপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস ছিল যে, আমি উন্নতি করব... আমি নিশ্চিত ছিলাম, সঠিক সময়ে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে আমি আবার জ্বলে উঠব।’
আজ বৃহস্পতিবার ভোরে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে জোড়া গোল করেন ভিনিসিয়ুস। এর মাধ্যমে এবারের আসরে নিজের গোলসংখ্যাকে চারে নিয়ে গেলেন। গোলদাতার তালিকায় কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হ্যালান্ডের সঙ্গে এখন যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে আছেন ভিনি। পাঁচ গোল নিয়ে সবার উপরে আছেন লিওনেল মেসি।
ভিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে ফিরে আসার চেয়ে ভালো আর কিছুই হতে পারে না, ঠিক সে জায়গায় যেখানে থাকার স্বপ্ন আমি সব সময় দেখেছি। নিজের পরিবারকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারা, ব্রাজিলের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারাÑআমার মনে হয় এর চেয়ে সেরা আর কিছুই হতে পারে না।’
শিষ্য ভিনির স্তুতি গেয়ে কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেন, ‘আমার মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না যে, এই বিশ্বকাপে সে কতটা দূর যাবে বা কতটা ভালো করবে। জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারাটা তাকে আনন্দ দেয়। সে সত্যিই অসাধারণ একটি কাজ করছে।’
ভিনিসিয়ুসের অবিশ্বাস্য এ পুনরুত্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছেন ব্রাজিলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। এর আগে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদে ভিনিসিয়ুসের গুরু ছিলেন আনচেলত্তি। ওই সময়ে এই জুটি দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ও দুটি লা লিগা ট্রফি জিতেছিল। ব্রাজিলের পুরোনো কোচদের অধীনে যেখানে ৩৯ ম্যাচে ভিনিসিয়ুসের গোল ছিল মাত্র ছয়টি, সেখানে আনচেলত্তির অধীনে মাত্র ১৩ ম্যাচেই তিনি করে ফেলেছেন সাত গোল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

