হাইসেম হাসান নিচু পাসে মোস্তফা জিকোকে বল বাড়িয়ে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে বলের গতিপথ কেটে দেয়।
সময়মতো ইন্টারসেপশনের মাধ্যমে বলের নিয়ন্ত্রণ আবার নিজেদের দখলে নিয়ে সম্ভাব্য বিপদ এড়িয়ে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দ্বিতীয় গোলের উল্লাসে মেতে উঠেছিল মিসর, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আনন্দ স্থায়ী হলো না।
লিসান্দ্রো মার্তিনেজের ভুলে নিজেদের অর্ধ থেকেই বল কেড়ে নিয়ে দুর্দান্ত একক দৌড় শুরু করেন হাইসেম হাসান। এরপর তিনি বল বাড়িয়ে দেন মোহাম্মদ সালাহর কাছে। সালাহ নিখুঁত পাসে মোস্তফা জিকোকে খুঁজে নেন, আর জিকো এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন।
তবে গোল উদযাপনের মাঝেই হস্তক্ষেপ করে ভিএআর। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। ফলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আর্জেন্টিনা।
মোহাম্মদ সালাহর ফাউলে লিয়ান্দ্রো পারেদেস মাটিতে পড়ে গেলে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। স্বভাবমতো বলের পেছনে দাঁড়ান অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
মেসির ফ্রি-কিক থেকে উড়ে আসা বল মুষ্টিবদ্ধ হাতে পাঞ্চ করে বিপদমুক্ত করেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। ফিরতি বলে আর্জেন্টিনার আরেকটি শট নেওয়া হলেও সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে আবারও গোলের দেখা পেল না বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আক্রমণে ওঠে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসি ডানদিকে বল বাড়িয়ে দেন রদ্রিগো ডি পলের কাছে। মিসরের ডিফেন্ডারদের পায়ের ফাঁক দিয়ে লক্ষ্যভেদী শট নেন ডি পল।
তবে মোস্তফা শোবেইর কোনো ভুল করেননি। দারুণ অবস্থান নিয়ে সহজেই বলটি তালুবন্দি করেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধেও আর্জেন্টিনার আক্রমণের সামনে দৃঢ় প্রাচীর হয়ে রয়েছেন মিসরের এই গোলরক্ষক।
বিরতি শেষে আবারও মাঠ গড়িয়েছে বল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একটি পরিবর্তন এনেছে মিসর। চোট পাওয়া এমাম আশুরের পরিবর্তে মাঠে নেমেছেন হামদি ফাথি।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা কোনো পরিবর্তন ছাড়াই দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করেছে। আটলান্টায় এক গোলে পিছিয়ে থাকা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এখন সমতায় ফেরার লক্ষ্যে মরিয়া।
প্রথমার্ধের শেষ বাঁশি বাজতেই এক গোলের লিড নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরেছে মিসর। কর্নার থেকে মারওয়ান আতিয়ার নিখুঁত ক্রসে ইয়াসির ইব্রাহিমের হেডই এখন পর্যন্ত দুই দলের ব্যবধান গড়ে দিয়েছে।
এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমকের ইঙ্গিত মিলছে আটলান্টায়। কারণ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পিছিয়ে রয়েছে ফারাওদের বিপক্ষে।
এদিন সমতা ফেরানোর সেরা সুযোগও পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। মোস্তফা শোবেইরের দুর্দান্ত সেভে হতাশ হতে হয় আর্জেন্টাইনদের। এর আগে এই বিশ্বকাপেও একবার পেনাল্টি মিস করেছিলেন মেসি। ফলে বিশ্বকাপের এক আসরে দুইবার পেনাল্টি মিস করা ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড়ও হয়ে গেলেন তিনি।
প্রথমার্ধে গোল, পেনাল্টি, পোস্টে লেগে ফিরে আসা শট এবং শোবেইরের একাধিক অবিশ্বাস্য সেভ—সব মিলিয়ে রোমাঞ্চে ভরপুর ৪৫ মিনিট শেষে এগিয়ে রয়েছে মিসর, আর ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে আর্জেন্টিনার সামনে।

গোল শোধে মরিয়া আর্জেন্টিনা ক্রমাগত আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এবার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার লম্বা একটি পাস বাড়ান লিওনেল মেসির উদ্দেশে।
তবে মিসরের ডিফেন্ডার রামি রাবিয়া দুর্দান্ত মার্কিং করে মেসিকে বল নিয়ন্ত্রণের সুযোগই দেননি। তার হেডে বল ফিরে যায় গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইরের কাছে, যিনি সহজেই সেটি তালুবন্দি করেন। মিসরের রক্ষণভাগ এখনও দৃঢ়ভাবেই আগলে রেখেছে তাদের এক গোলের লিড।
অসাধারণ সেই সেভ করার পরই মাঠে শুয়ে পড়েন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। মুহূর্তের জন্য উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে ফারাও শিবিরে—চোট পেয়েছেন কি না, তা নিয়ে শুরু হয় শঙ্কা।
দ্রুত মাঠে ছুটে আসে মিসরের মেডিকেল দল। কয়েক সেকেন্ড চিকিৎসা নেওয়ার পর ২৬ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক আবার উঠে দাঁড়ান এবং খেলা চালিয়ে যাওয়ার সংকেত দেন। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মিসরীয় শিবির।
বাম প্রান্ত দিয়ে দারুণ এক আক্রমণ গড়ে তোলে আর্জেন্টিনা। নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর নিখুঁত ক্রস থেকে লক্ষ্যভেদী শট নেন হুলিয়ান আলভারেজ।
তবে আবারও দেয়াল হয়ে দাঁড়ান মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দেন তিনি। এখন পর্যন্ত ম্যাচের সেরা সেভ বললেও অত্যুক্তি হবে না। শোবেইরের দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ে এখনও ১-০ গোলে এগিয়ে রয়েছে মিশর।
আর্জেন্টিনা একটি বিপজ্জনক ফ্রি-কিক আদায় করে নেয়। বলের পেছনে দাঁড়ান লিওনেল মেসি। তার নেওয়া বাঁ-পায়ের দারুণ বাঁকানো শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও দুর্ভাগ্যবশত আঘাত হানে পোস্টে।
বল ফিরে এলে শেষ পর্যন্ত বিপদমুক্ত হয় মিসর। আরেকটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। স্কোরলাইন এখনও মিসর ১-০ আর্জেন্টিনা।

সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিল আর্জেন্টিনা। মিসরের রক্ষণভাগে চমৎকার বোঝাপড়ায় আক্রমণ গড়েন আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও রদ্রিগো ডি পল। ডি পলের বাড়ানো বল থেকে হেড করেন ম্যাক অ্যালিস্টার।
তবে গোল হতে দেননি মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় দুই হাত বাড়িয়ে বল ঠেলে বিপদমুক্ত করেন তিনি। আরেকটি দুর্দান্ত সেভে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করলেন এই মিসরীয় গোলরক্ষক।
প্রথম হাইড্রেশন বিরতির জন্য খেলা থামিয়েছেন রেফারি। এই বিরতিতে ম্যাচের চিত্র যেন পুরোপুরি বদলে গেছে।
ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে থাকা মিসরের সমর্থকেরা গ্যালারিতে উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন। অন্যদিকে, লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিসের হতাশায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মুখে স্পষ্ট উদ্বেগ। এখন তাদের একটাই প্রত্যাশা—দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ প্রত্যাবর্তন করে ম্যাচে ফিরুক আলবিসেলেস্তেরা।

স্পট-কিক নিতে এগিয়ে আসেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে তার নেওয়া শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর।
বিশাল এক সেভে মিসরের এক গোলের লিড অক্ষুণ্ন রাখলেন তিনি। স্কোরলাইন এখনও মিশর ১-০ আর্জেন্টিনা।
বাম দিক থেকে থ্রু পাস পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। ঠিক সেই সময় তাকে ফাউল করেন মিসরের হাইসেম হাসান। কোনো দ্বিধা না করে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সেট-পিসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচে এগিয়ে গেল মিসর।
মারওয়ান আতিয়ার নেওয়া নিখুঁত ক্রসে দারুণ উঁচুতে লাফিয়ে হেড করেন ইয়াসির ইব্রাহিম। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে কোনো সুযোগ না দিয়ে জালে বল জড়িয়ে দেন এই ডিফেন্ডার।
আটলান্টায় বড় চমকের ইঙ্গিত দিল ফারাওরা।
এনজো ফার্নান্দেজের ফাউলে মাটিতে পড়ে যান করিম হাফেজ। রেফারির বাঁশির পর দ্রুতই ফ্রি-কিক নিয়ে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করে মিশর।
অন্যদিকে, গ্যালারিজুড়ে শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা সমর্থকদের গান আর স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো স্টেডিয়াম। মনে হচ্ছে যেন আটলান্টায় নয়, আর্জেন্টিনারই কোনো মাঠে খেলছে লিওনেল মেসির দল। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য যেন এটি আরেকটি ‘হোম ম্যাচ’-এর আবহ।
দ্রুতগতির এক আক্রমণে থ্রু পাস পেয়ে এগিয়ে যান রদ্রিগো ডি পল। বক্সের ভেতরে এনজো ফার্নান্দেজের জন্য অপেক্ষা করে নিচু ক্রস বাড়ান তিনি।
তবে আক্রমণটি শেষ পর্যন্ত আর এগোয়নি। সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তুললে খেলা থেমে যায়।
ডান প্রান্ত দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন হাইসেম হাসান। তবে তাকে ফাউল করে থামিয়ে দেন আর্জেন্টিনার নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। ফলে ম্যাচের প্রথম ফ্রি-কিক পায় মিসর।
ফ্রি-কিকটি নেন মোহাম্মদ সালাহ। তিনি বক্সে দারুণ একটি ক্রস ভাসিয়ে দিলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ দ্রুত বিপদ সামলে বল ক্লিয়ার করে দেয়।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে আর্জেন্টিনা। ধীরে ধীরে পাস আদান-প্রদানের মাধ্যমে খেলার গতি নিজেদের মতো করে গড়ে তুলতে চাইছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
অন্যদিকে, ম্যাচের শুরুতেই কিছুটা দুশ্চিন্তায় পড়ে মিসর। মিডফিল্ডার এমাম আশুরকে অস্বস্তিতে ভুগতে দেখা যায়। তবে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি আবার উঠে দাঁড়ান এবং খেলায় ফিরে আসেন, স্বস্তি ফেরে ফারাও শিবিরে।
আর্জেন্টিনা আজ খেলছে ৪-৪-২ ছকে। আক্রমণভাগে জুটি গড়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ।
অন্যদিকে, মিশর নেমেছে ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে। ডান প্রান্তে খেলছেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা মোহাম্মদ সালাহ, যাকে ঘিরেই গড়ে উঠছে ফারাওদের আক্রমণ।
কিক-অফ!
আটলান্টায় রেফারির প্রথম বাঁশির সঙ্গে খেলা শুরু। প্রথম স্পর্শেই বল গড়িয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
মিশর মাঠে নেমেছে তাদের ঐতিহ্যবাহী লাল-কালো জার্সিতে, আর বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা খেলছে তাদের পরিচিত সাদা-আকাশি নীল ডোরাকাটা জার্সিতে।
দুই দলের জাতীয় সংগীত পরিবেশনা শেষ হয়েছে। গ্যালারিতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে সমর্থকেরা উঁচিয়ে ধরেছেন নিজ নিজ দেশের পতাকা, সৃষ্টি হয়েছে আবেগঘন এক পরিবেশ।
দলীয় ছবি তোলার পর খেলোয়াড়রা নিজেদের নির্ধারিত অবস্থানে চলে গেছেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ। প্রস্তুতি সম্পন্ন।
এবার কেবল রেফারির বাঁশির অপেক্ষা।
শুরু হোক আর্জেন্টিনা–মিসরের মহারণ!

আর্জেন্টিনা ও মিসরের খেলোয়াড়রা মাঠে নামার জন্য টানেলে প্রস্তুত। এ সময় লিভারপুলে একসঙ্গে খেলার স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে উষ্ণ আলিঙ্গনে শুভেচ্ছা জানান মোহাম্মদ সালাহ।
এরপর গ্যালারিভর্তি দর্শকদের উচ্ছ্বাসের মধ্যে মাঠে প্রবেশ করে দুই দল। স্টেডিয়ামের স্পিকারে বাজছে ‘দাই দাই’, চারপাশে উৎসবের আমেজ। সামনে একটাই লক্ষ্য—বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট। আর মাত্র কয়েক মিনিট পরই শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই মহারণ।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে অফিসিয়াল ম্যাচে আর্জেন্টিনা ও মিসর এর আগে মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছে। সেই ম্যাচে জয় পেয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকার পরাশক্তি আর্জেন্টিনা। ফলে ফারাওদের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে আলবিসেলেস্তেরা।
আজকের বহুল প্রতীক্ষিত শেষ ষোলোর লড়াইয়ে প্রথমবারের মতো সিনিয়র দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে মুখোমুখি হচ্ছেন দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও মোহাম্মদ সালাহ।
মুখোমুখি পরিসংখ্যান:
মোট ম্যাচ: ১
আর্জেন্টিনার জয়: ১
ড্র: ০
মিশরের জয়: ০

গ্যালারির বেশিরভাগ আসনই ইতোমধ্যে দর্শকে পূর্ণ। দুই দলের ওয়ার্ম-আপও শেষ হয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তের কৌশল নিয়ে আলোচনা করতে খেলোয়াড়রা ফিরে গেছেন ড্রেসিংরুমে।
পণ একটিই—বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট। আর সেই লড়াইয়ে আটলান্টায় মুখোমুখি হচ্ছেন ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা—লিওনেল মেসি ও মোহাম্মদ সালাহ।

‘কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের আগে যেমন সতর্ক ছিলাম, এবারও ঠিক তেমনই সতর্ক আছি। মিসরও খুব শক্তিশালী প্রতিপক্ষ।
তারা খুব ভালো দল। দলে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় আছে, আর তাদের কোচও দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে কাজ করছেন। তারা দারুণ ফুটবল খেলে এবং প্রতিপক্ষের জন্য সব সময় কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
সালাহ একজন অসাধারণ ফুটবলার। তার বিপক্ষে খেলতে পারাটা আনন্দের। এমন বড় মাপের খেলোয়াড়দের কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়, সেটা আমরা জানি এবং সে অনুযায়ী সব সময় কঠোর পরিশ্রম করি।’
- লিওনেল স্কালোনি, আর্জেন্টিনা কোচ
স্পটলাইট!
আর্জেন্টিনা ও মিশর দুই দলকেই শেষ ষোলোর বাধা পেরোতে খেলতে হয়েছে ১২০ মিনিট। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হওয়ার আগে বিশ্রামের সুযোগ মিলেছে মাত্র চার দিন।
আর্জেন্টিনার জন্য এই স্বল্প সময়ের প্রস্তুতি এসেছে কিছুটা বাড়তি দুশ্চিন্তা নিয়ে। গ্রুপ পর্বে দারুণ ছন্দে থাকা লিওনেল স্কালোনির দল শেষ ষোলোতে কেপ ভার্দের বিপক্ষে বড় অঘটনের মুখে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলের জয়ে কোনোমতে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
অন্যদিকে, মিসরও সহজে আসেনি। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শেষ আটের লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছে ফারাওরা।
ফ্ল্যাশব্যাক!
গত রাতে স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। অনেকের মতে, এভাবেই শেষ হলো বিশ্বকাপে রোনালদোর অধ্যায়।
এবার চোখ লিওনেল মেসির দিকে। দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী অনেকের চোখে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতার অন্য নায়ক মেসি কি আজ ভিন্ন গল্প লিখতে পারবেন? নাকি শেষ ষোলোর মঞ্চে তারও অপেক্ষায় আছে আরেকটি অপ্রত্যাশিত চমক?
সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আজকের আর্জেন্টিনা–মিশর মহারণে।
ম্যাচ শুরুর আগে আর্জেন্টিনা ও মিশরের টিম বাস পৌঁছে গেছে মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হবে দুই দলের ওয়ার্ম-আপ। সবকিছু মিলিয়ে দারুণ এক উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।


আগের ম্যাচের একাদশ থেকে তিনটি পরিবর্তন এনেছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। নিকোলাস তাগলিয়াফিকো সুযোগ পেয়েছেন মেদিনার জায়গায়, লিয়ান্দ্রো পারেদেস খেলছেন থিয়াগো আলমাদার পরিবর্তে এবং লাউতারো মার্তিনেজের জায়গায় একাদশে ফিরেছেন হুলিয়ান আলভারেজ।
আর্জেন্টিনার একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ; নাহুয়েল মোলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো; রদ্রিগো ডি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার; লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ।
মিসরের একাদশ: মোস্তফা শোবেইর; মোহামেদ হানি, রামি রাবিয়া, ইয়াসের ইব্রাহিম, করিম হাফেজ; মারওয়ান আতিয়া, এমাম আশুর, মোস্তফা জিকো, মোহানাদ লাশিন; মোহাম্মদ সালাহ ও হাইসেম হাসান।
স্বাগতম
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনা বনাম মিসরের লড়াইয়ের দৈনিক আমার দেশ-এর লাইভ কভারেজে স্বাগতম।
লিওনেল মেসির নেতৃত্বে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাওয়া আর্জেন্টিনা এবার লক্ষ্য চতুর্থ শিরোপা। তবে সেই অভিযানে তাদের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মোহাম্মদ সালাহর নেতৃত্বাধীন মিসর। লিভারপুল কিংবদন্তিকে সামনে রেখে ‘ফারাওরা’ কি পারবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের চ্যালেঞ্জ জানাতে?
আলবিসেলেস্তে ও মিসরের মধ্যকার এই শেষ ষোলোর ম্যাচের রিয়েল-টাইম আপডেট, একাদশ, স্কোর এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো জানতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।