আরেকটি বিশ্বকাপ, আরেকটি টাইব্রেকারের দুঃস্বপ্ন। ইউরোপের আরেক পরাশক্তি নেদারল্যান্ডসকে বিদায়ের তিক্ত স্বাদ উপহার দিয়ে শেষ ষোলোয় উঠে গেছে মরক্কো। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট শেষে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচে টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জিতে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখেছে আটলাস লায়ন্সরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে বেশি ধারালো ছিল মরক্কো। আক্রমণভাগে ব্রাহিম দিয়াজ, ইসমাইল সাইবারি ও আয়ুব বুয়াদ্দিরা বারবার ডাচ রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছিলেন। একাধিকবার নেদারল্যান্ডসকে বাঁচান গোলরক্ষক বার্ট ফেরব্রুগেন। অন্যদিকে আচরাফ হাকিমির এক প্রচেষ্টা ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
প্রথমার্ধে গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচের ৭২ মিনিটে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। ক্রিসেনসিও সামারভিলের বাড়ানো বল থেকে দারুণ ফিনিশে জাল খুঁজে নেন কডি গাকপো। ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও করা সেই গোলটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ডাচদের শেষ ষোলোর স্বপ্ন দেখাচ্ছিল।
কিন্তু যোগ করা সময়ে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় মরক্কো। ৯১ মিনিটে চেমসদিন তালবির ক্রসে উঁচু লাফিয়ে হেডে সমতা ফেরান ইসা দিয়প। শেষ মুহূর্তের সেই গোল নেদারল্যান্ডসকে ঠেলে দেয় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়েও দুই দল বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও আর গোলের দেখা মেলেনি। ফলে ভাগ্য নির্ধারণের দায় গিয়ে পড়ে টাইব্রেকারে।
সেখানেই শুরু হয় নাটক। প্রথম শটেই নেদারল্যান্ডসের জাস্টিন ক্লুইভার্ট পোস্টের বাইরে মারেন। মরক্কোর নিল এল আইনাউইও ক্রসবারে আঘাত করেন। এরপর সৌফিয়ান রাহিমি, ভাউট ভেগহর্স্ট ও চেমসদিন তালবি সফল হলেও ডাচদের কুইন্টেন টিম্বার শট বাইরে পাঠান। মরক্কোর আচরাফ হাকিমিও পোস্টে মারেন, ফলে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
চতুর্থ ডাচ শট নিতে আসা সামারভিলের প্রচেষ্টা অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ইয়াসিন বুনু। এরপর ইসমাইল সাইবারি ঠান্ডা মাথায় জাল খুঁজে নিলে ৩-২ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে মরক্কো।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় টাইব্রেকারের জন্ম দিল এই ম্যাচ। ১০টি স্পটকিকের মধ্যে চারটি মিস হয়, আর বুনুর আরেকটি বীরত্বগাথা যোগ হয় বিশ্বকাপের পাতায়। কাতার বিশ্বকাপের মতো এবারও টাইব্রেকারে তিনি হয়ে ওঠেন মরক্কোর ত্রাতা।
এই জয়ের ফলে শেষ ষোলোয় কানাডার মুখোমুখি হবে মরক্কো। আর টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে টাইব্রেকারের হতাশা নিয়েই বিদায় নিতে হলো নেদারল্যান্ডসকে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

