জাপানের বিপক্ষে গোলের দেখা পাননি। তবু মাঠজুড়ে ছিলেন ব্রাজিলের সবচেয়ে প্রাণবন্ত আক্রমণভাগের ফুটবলারদের একজন। একাধিকবার প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙেছেন, গোলের খুব কাছেও গিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পোস্টই হয়ে দাঁড়ায় তার দুর্ভাগ্যের প্রতীক। তবে ব্যক্তিগত আক্ষেপকে ছাপিয়ে শেষ হাসিটা ছিল ব্রাজিলেরই। আর তাই শেষ ষোলো নিশ্চিত হওয়ার পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কণ্ঠে শোনা গেল আরও বড় স্বপ্নের কথা—এই জয়েই তৃপ্ত নয় সেলেসাওরা।
হিউস্টনে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কাইশু সানোর গোলে পিছিয়ে পড়া ব্রাজিল দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরোর সমতাসূচক গোল এবং ইনজুরি টাইমে বদলি খেলোয়াড় গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির জয়সূচক গোলের সুবাদে নাটকীয় জয় তুলে নেয়।
ম্যাচে গোল না পেলেও ব্রাজিলের আক্রমণে সবচেয়ে বড় হুমকি ছিলেন ভিনিসিয়ুস। প্রথমার্ধে ৩৪ মিনিটে দূরপাল্লার একটি শট সহজেই জাপানের গোলরক্ষক জিওন সুজুকি তালুবন্দী করেন। তবে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে ৫৮ মিনিটে। বাম প্রান্ত থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে গিয়ে প্রথমে তাকেহিরো তোমিয়াসুকে নাটমেগ করেন তিনি। এরপর আরেক ডিফেন্ডারকে ড্রিবলে কাটিয়ে বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া তার নিখুঁত শট সুজুকির আঙুল ছুঁয়ে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অল্পের জন্য বঞ্চিত হন অসাধারণ এক গোল থেকে। ম্যাচের শেষ দিকেও তার আরেকটি শট জাপানের রক্ষণ আটকে দেয়।
গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে চার গোল করা রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড গোলের খাতা সমৃদ্ধ করতে না পারলেও দলের জয়ই ছিল তার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ভিনিসিয়ুস লিখেছেন, “আমরা এখনও টিকে আছি, আর আমরা আরও বেশি চাই। এই জয় ব্রাজিলের জন্য।”
অন্যদিকে জয়সূচক গোল করে ব্রাজিলকে শেষ ষোলোয় তোলা গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি আবেগে ভাসেন ম্যাচ শেষে। আর্সেনাল ফরোয়ার্ড বলেন, “আমার হৃদয়ের আনন্দ প্রকাশ করার মতো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। গ্যালারিতে সমর্থকদের, বাবা-মা আর বন্ধুদের দেখে মুহূর্তটা আরও বিশেষ হয়ে উঠেছিল। বল পোস্টে লাগার পরও আমার বিশ্বাস ছিল, আরেকটি সুযোগ আসবে। সত্যি বলতে, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।”
নিজের গোলের চেয়ে দলের সাফল্যকেই বড় করে দেখছেন মার্টিনেল্লি। তিনি বলেন, “আমি বাম পাশে খেলি বা মাঝখানে—তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলকে সাহায্য করতে পারা। আজ সেটাই করতে পেরেছি, এটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।”
জাপানের কঠিন পরীক্ষা উতরে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেওয়া ব্রাজিল এখন আরও বড় লক্ষ্যের দিকে তাকিয়ে। আর সেই বার্তাই যেন স্পষ্ট করে দিলেন ভিনিসিয়ুস—এই জয় তাদের গন্তব্য নয়, বরং আরও দীর্ঘ পথচলার শুরু।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

