বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের আকস্মিক বিদায়ের পর ফুটবলবিশ্বে নেমে এসেছে স্তব্ধতা। মাঠের ব্যর্থতার পর সেলেসাওদের প্রাণভোমরা নেইমার জুনিয়র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। দলের এমন বিপর্যয়ে তার এই নীরবতা যখন সমর্থকদের মনে নানা প্রশ্ন আর ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশার জন্ম দিয়েছে, ঠিক তখনই ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাবা নেইমার সিনিয়র। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক দীর্ঘ ও আবেগঘন পোস্টে তিনি ছেলেকে সমালোচনা ও হতাশা পেছনে ফেলে আবারও মাঠে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।
নেইমার সিনিয়রের এই বার্তা ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এক নতুন আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। নিচে তার সেই বার্তার মূল অংশটি তুলে ধরা হলো।
ছেলের শৈশব থেকে শুরু করে বিশ্বমানের তারকা হয়ে ওঠার পুরো যাত্রার কথা স্মরণ করে নেইমার সিনিয়র লিখেছেন, ‘আহ্ ছেলে..., কী এক পথচলা! কত সুন্দর, চড়াই-উতরাইয়ে ভরা এক যাত্রা। অনেক সময় বেদনার; কিন্তু দিন শেষে সৃষ্টিকর্তার অশেষ আশীর্বাদে ধন্য।’ ছোটবেলায় বল পায়ে স্বপ্ন দেখা নেইমারের মধ্যেই তিনি ভিন্ন কিছু দেখেছিলেন উল্লেখ করে বলেন, এটি শুধু সাধারণ কোনো প্রতিভা ছিল না, বরং ছিল একটি পবিত্র ‘মিশন’। নেইমারের ক্যারিয়ারের প্রথম গোল, প্রথম ট্রফি থেকে শুরু করে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে বিশ্বজয়ের মঞ্চে থাকার প্রতিটি মুহূর্তে ছেলের পাশেই ছিলেন বাবা।
বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় নেইমারের ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ যখন অনিশ্চয়তার মুখে, তখন একজন বাবা হিসেবে তার স্পষ্ট দাবি—‘খেলা চালিয়ে যাও।’ নেইমার জুনিয়র এখন সম্পূর্ণ সুস্থ উল্লেখ করে তার বাবা অনুরোধ জানান, ‘আজ একজন বাবা হিসেবে তোমার কাছে আমার একটি অনুরোধ-তুমি ফুটবল খেলা চালিয়ে যাও। বল পায়ে আবার আনন্দ খুঁজে নাও। মাঠে আবার হাসো। আজ তুমি সুস্থ। ঈশ্বর তোমাকে আবার সে কাজটি করার সুযোগ দিয়েছেন, যা তুমি সব সময় ভালোবেসেছ।’
সমালোচকদের তির্যক মন্তব্য বা কোটি ভক্তের প্রত্যাশার চাপ যেন নেইমারকে থামিয়ে না দেয়, সে পরামর্শ দিয়েছেন নেইমার সিনিয়র। তিনি মনে করিয়ে দেন, একটি স্বপ্ন পূরণ না হওয়া মানেই জীবনের সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়। তার মতে, জীবনের শেষ অধ্যায়টি বিধাতা নিজেই লেখেন এবং কোনো একটি কঠিন মুহূর্ত দিয়ে পুরো ইতিহাসের গল্প নির্ধারিত হতে পারে না।
বার্তার শেষ অংশে তিনি নেইমারকে আগামীকালের ভয় দূরে ঠেলে বর্তমানকে উপভোগ করার পরামর্শ দেন। অনুশীলন করা, হাসা, ফুটবল খেলা এবং সন্তানদের জড়িয়ে ধরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর প্রতি জোর দেন বাবা। বয়স বা পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, সেরাটা ঈশ্বরের ওপর ছেড়ে দিয়ে হালকা মনে মানুষকে আবারও মন্ত্রমুগ্ধ করার জন্য ছেলেকে অনুপ্রাণিত করেন নেইমার সিনিয়র।
বিশ্বকাপ ট্রফি অধরাই থেকে যাওয়ার বেদনায় যখন নেইমার জুনিয়র মুষড়ে পড়েছেন, তখন নেইমার সিনিয়রের এই পোস্টটি কেবল একজন এজেন্টের পেশাদার বক্তব্য নয়, বরং এক ভাঙা মনকে জোড়া লাগানোর জন্য একজন বাবার পরম আশ্রয়। বাবার এই আবেগঘন আহ্বানে সাড়া দিয়ে নেইমার জুনিয়র আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে বা ক্লাব ফুটবলে চেনা ছন্দে ফিরবেন কি না-এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় বিশ্বফুটবল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

