দুই ম্যাচ, তিন গোল, দুই অ্যাসিস্ট। বদলি হিসেবে নেমেই পাঁচ গোলে সরাসরি অবদান। জার্মানির জার্সিতে বিশ্বকাপে এমন বিস্ফোরক শুরু খুব কম ফুটবলারেরই আছে। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে তো একাই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন ডেনিজ উনদাভ। প্রথমে সমতা ফেরানো গোল, এরপর ইনজুরি সময়ে জয়সূচক গোল। তার জোড়া গোলেই ২-১ ব্যবধানে জিতে টানা দুই বিশ্বকাপের হতাশা কাটিয়ে ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে জার্মানি।
২৯ বছর বয়সি এই স্ট্রাইকারের এমন পারফরম্যান্স আরো বিস্ময়কর, কারণ কয়েক মাস আগেও কোচ জুলিয়ান নাগেলসমানের সঙ্গে তার প্রকাশ্য মতবিরোধ হয়েছিল।
মার্চে ঘানার বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে জয়সূচক গোল করার পর উনদাভ বলেছিলেন, তিনি জার্মানির প্রথম একাদশে নিয়মিত খেলতে চান। কিন্তু নাগেলসমান তখন মন্তব্য করেছিলেন, শুরু থেকেই খেললে হয়তো তিনি সেই গোল করতে পারতেন না। পরে অবশ্য কোচ স্বীকার করেন, ওই মন্তব্যের জন্য উনদাভের কাছে ক্ষমাও চেয়েছিলেন।
উনদাভ অবশ্য মুখে নয়, জবাব দিয়েছেন মাঠে। বিশ্বকাপে দুই ম্যাচে বদলি নেমে তিন গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে তিনি এখন প্রথম একাদশে জায়গার সবচেয়ে শক্ত দাবিদার। জাতীয় দলের হয়ে ১১ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯।
এই সাফল্যের পেছনের গল্পটাও কম অনুপ্রেরণার নয়। ১৪ বছর বয়সে ওয়ের্ডার ব্রেমেন তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল ‘উচ্চতা কম’ বলে। ১৭ বছর বয়সে জার্মানির চতুর্থ বিভাগের ক্লাবে খেলার পাশাপাশি দিনে আট ঘণ্টা কারখানায় লেজার মেশিন চালানোর কাজ করতেন। ভোর ৪টায় ঘুম থেকে উঠে কারখানা, তারপর অনুশীলন—এভাবেই চলত তার জীবন।
সেখান থেকে বেলজিয়ামের ইউনিয়ন সাঁ-জিলোয়াজ, এরপর ব্রাইটন, তারপর স্টুটগার্ট। ২০২৫-২৬ মৌসুমে বুন্দেসলিগায় ১৯ গোল করে হ্যারি কেইনের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হন উনদাভ। সেই পারফরম্যান্সই তাকে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিয়ে আসে।
এখন প্রশ্ন একটাই—এমন দুর্দান্ত ছন্দে থাকা উনদাভকে আর কতদিন বেঞ্চে বসিয়ে রাখবেন নাগেলসমান? আইভরি কোস্ট ম্যাচের পর জার্মান কোচ নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইকুয়েডরের বিপক্ষে প্রথম একাদশে দেখা যেতে পারে এই দুর্দান্ত ফর্মে থাকা স্ট্রাইকারকে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

