ফিলিস্তিনকে জয় উৎসর্গ মিশরের

স্পোর্টস ডেস্ক

ফিলিস্তিনকে জয় উৎসর্গ মিশরের

বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জয় তুলে নিয়ে নতুন অধ্যায় লিখেছে মিশর। তবে এই সাফল্যের গৌরব শুধু নিজেদের জন্য রাখেনি আফ্রিকার দেশটি। অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর প্রধান কোচ হোসাম হাসান জয়টি উৎসর্গ করেছেন যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি। তার আবেগঘন বার্তা ছড়িয়ে পড়তেই গাজার ধ্বংসস্তূপেও দেখা গেছে আনন্দ আর উদযাপনের বিরল দৃশ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতা ছিল দুই দলের। পরে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় পেয়ে বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাসে নিজেদের প্রথম সাফল্য তুলে নেয় মিশর।

ম্যাচের ১৩তম মিনিটে ইমাম আশুরের হেডে এগিয়ে যায় মিশর। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে মোহাম্মদ হানির আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। এরপর অতিরিক্ত সময়েও আর কোনো দল গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে হোসাম আবদেলমাগুইদের জয়সূচক স্পটকিকের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সাউতার ও লুকাস হেরিংটনের ব্যর্থতায় শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে মিশর।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত হোসাম হাসান বলেন, ‘আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করুন এবং তাদের শহীদদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। এই জয় আমি মিশরের জনগণ এবং ফিলিস্তিনের সেই সম্মানিত মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করছি।’

শুধু কথাতেই নয়, মাঠেও সেই বার্তার প্রতিফলন দেখা যায়। ম্যাচ শেষের উদযাপনে মিশর ও ফিলিস্তিন—দুই দেশের পতাকা হাতে মাঠ প্রদক্ষিণ করেন হাসান। খেলোয়াড়রাও ঐতিহাসিক এই অর্জনের পর সিজদায় লুটিয়ে পড়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

হাসানের এই বক্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যুদ্ধের ক্ষত বয়ে বেড়ানো গাজার বাসিন্দারাও মিশরের জয়কে নিজেদের আনন্দ হিসেবে উদযাপন করেন।

গাজার বাসিন্দা তামের নাহেদ এক্সে লিখেছেন, ‘জীবনে এই প্রথম এতটা উত্তেজনা নিয়ে বিশ্বকাপ দেখছি। মিশরের জয় আমাকে ভীষণ আনন্দ দিয়েছে। তবে সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য ছিল, ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়ি আর তাঁবু থেকে হাজারো মানুষ বেরিয়ে এসে একসঙ্গে ম্যাচ দেখছিল। চারদিকে ছিল হাসি আর উল্লাস।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের মাঝেই অস্থায়ী বড় পর্দা বসিয়ে শত শত মানুষ খেলা উপভোগ করছেন। অনেক শিশুর মুখে আঁকা ছিল মিশরের পতাকা। টাইব্রেকারে জয় নিশ্চিত হতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন তারা। যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতার মধ্যেও ফুটবল যেন কিছুক্ষণের জন্য হলেও তাদের মুখে ফিরিয়ে এনেছে হাসি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...