মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে দেশটির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের শীর্ষ আদালতে যুগান্তকারী মামলার বিচার কাজ শুরু হচ্ছে । সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে শুনানি শুরু হবে, চলবে তিন সপ্তাহ ধরে। গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে মিয়ানমার ।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) এটিই প্রথম গণহত্যার মামলা, যার পূর্ণাঙ্গ শুনানি হবে। যদিও সংবেদনশীলতা এবং গোপনীয়তার কারণে জনসাধারণ এবং গণমাধ্যমের জন্য এই শুনানি বন্ধ থাকবে।
এই মামলার ফলাফলের প্রভাব মিয়ানমারের বাইরেও পড়তে পারে, বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের জন্য আইসিজেতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা গণহত্যার মামলার ওপর।
মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত সংস্থার প্রধান নিকোলাস কুমজিয়ান রয়টার্সকে বলেছেন, ‘এই মামলাটি গণহত্যা কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় এবং কীভাবে এটি প্রমাণ করা যায় এবং কীভাবে লঙ্ঘনের প্রতিকার করা যায় তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করবে।’
মুসলিম অধ্যুষিত পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া ২০১৯ সালে আইসিজেতে (যা বিশ্ব আদালত নামেও পরিচিত) মামলাটি দায়ের করে। মামলায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পশ্চিম রাখাইন রাজ্যের মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগ আনা হয়।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর অভিযানে কমপক্ষে সাত লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা তাদের বাড়িঘর ছেড়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে চলে যেতে বাধ্য হয়, সেখানে তারা হত্যা, গণধর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগের কথা জানায়। বাংলাদেশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন সে সময়। তারা এখনও বাংলাদেশেই আছেন।
২০১৭ সালে বেসামরিক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযানের পরপরই জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানী দল এ ঘটনার তদন্ত করেছিল। সেই দলের তদন্ত প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর অভিযানকে ‘গণহত্যামূলক তৎপরতা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের অনুসন্ধানী দলের সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই ২০১৯ সালে বৈশ্বিক আদালতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলা করেছিল পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিায়া। সেই মামলারই শুনানি শুরু হচ্ছে সোমবার।
মিয়ানমারে যখন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছিল, সে সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অং সান সুচি। জাতিসংঘের অনুসন্ধানি দলের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি। গাম্বিয়া যখন মামলা করে, তখনও সেই মামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সুচি বলেছিলেন, গাম্বিয়ার অভিযোগ ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’।
২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হন সুচি এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকার। বর্তমানে মিয়ানমারের কারাগারে আছেন তিনি এবং দুর্নীতির অভিযোগে সেনাবাহিনীর আদালতে তার বিচার চলছে।
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


গ্রিনল্যান্ডে হামলার পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ ট্রাম্পের
ইরানে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে বিভক্ত ট্রাম্প প্রশাসন