আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

তদন্তের মুখে চীনের সামরিক বাহিনীর দুই শীর্ষ নেতা

আমার দেশ অনলাইন

তদন্তের মুখে চীনের সামরিক বাহিনীর দুই শীর্ষ নেতা
ছবি: সংগৃহীত।

চীনের সশস্ত্র বাহিনীর আগের দফার শুদ্ধি অভিযানে টিকে থাকা শেষ দুই শীর্ষ সামরিক নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বেইজিং। এতে করে পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-এর ওপর কার্যত একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলো দেশটির প্রেসিডেন্ট ও কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শি জিনপিংয়ের।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের (সিএমসি) ভাইস চেয়ারম্যান ঝাং ইউশিয়া এবং কমিশনের সদস্য ও পিএলএর যৌথ স্টাফ প্রধান লিউ ঝেনলির বিরুদ্ধে ‘গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ ও আইন লঙ্ঘনের’ অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সিএমসি চীনের সশস্ত্র বাহিনীর কৌশল নির্ধারণ ও সামরিক অভিযান পরিচালনার সর্বোচ্চ সংস্থা। ঝাং ও লিউ অপসারণের ফলে ইতিহাসে সর্বনিম্ন সদস্য নিয়ে কার্যক্রম চালাবে এই কমিশন। বর্তমানে এতে রয়েছেন শুধু শি জিনপিং এবং সামরিক দুর্নীতি দমন সংস্থার প্রধান ও রাজনৈতিক কমিশনার ঝাং শেংমিন, যিনি গত অক্টোবরে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে পদোন্নতি পান।

গত কয়েক বছর ধরেই পিএলএর ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ আরো সুসংহত করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন শি জিনপিং। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ভাষায় ‘শৃঙ্খলাভঙ্গ’ বলতে সাধারণত দুর্নীতিকে বোঝানো হলেও, এর সঙ্গে দলীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব গভীরভাবে জড়িত। মাও সে তুং-এর সময় থেকেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সরাতে এ ধরনের তদন্ত ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

প্যাসিফিক ফোরামের গবেষক ট্রিস্টান ট্যাং বলেন, এই তদন্ত শি জিনপিংয়ের শক্ত অবস্থানকেই তুলে ধরে। তার মতে, দুর্নীতির পাশাপাশি যুদ্ধ প্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষা সম্পদের অদক্ষ ব্যবহারের বিষয়গুলোও এই অভিযানের পেছনে বড় কারণ হতে পারে।

৭৫ বছর বয়সী জেনারেল ঝাং ইউশিয়া পিএলএর যুদ্ধ-অভিজ্ঞ কমান্ডারদের একজন। তিনি ১৯৭৯ সালে ভিয়েতনামের সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নেন। শি জিনপিংয়ের পরিবারের সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্কও ছিল, যা তাকে দীর্ঘদিন শির ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত করেছিল।

তবে গত বছর থেকে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে রাজনৈতিক আনুগত্য নিশ্চিত করার দিকে শির দৃষ্টি আরও তীব্র হওয়ায়, প্রভাবশালী কমান্ডাররা সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন বলে বিশ্লেষকদের মত।

মঙ্গলবার শি জিনপিংয়ের সভাপতিত্বে শীর্ষ নেতাদের এক বৈঠকের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারে ঝাং ও লিউর অনুপস্থিতি থেকেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার গুঞ্জন ছড়ায়। চীনে এমনভাবে জনসম্মুখ থেকে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাওয়াই সাধারণত শুদ্ধি অভিযানের প্রথম ইঙ্গিত।

চীনে এ ধরনের তদন্ত মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছরও চলতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযুক্তরা আটক হন, দোষী সাব্যস্ত হন এবং পদ ও পার্টি সদস্যপদ হারান।

সূত্র: ফিনান্সিয়াল টাইমস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...