আজ রোববার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন পেরুর নাগরিকেরা। জনমত জরিপ অনুযায়ী, কট্টর ডানপন্থি প্রার্থী কেইকো ফুজিমোরি ও বামপন্থি রবার্তো সানচেজের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
জরিপে ফুজিমোরি সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন এবং প্রায় এক-চতুর্থাংশ ভোটার কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেষ সপ্তাহে সানচেজ এই ব্যবধান কমিয়ে এনেছেন।
পেরুর সময় বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে এবং ভোট গণনা শেষে রাতেই বিজয়ী ঘোষণা করা হতে পারে। তবে ব্যবধান কম হলে চূড়ান্ত ফল পেতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
৫১ বছর বয়সি কেইকো ফুজিমোরি তার প্রয়াত ও বিতর্কিত পিতা সাবেক একনায়ক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির উত্তরাধিকারকে পুঁজি করে নির্বাচন করছেন। তার বাবার আমলেই ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে রক্তক্ষয়ী মাওবাদী বিদ্রোহী ‘শাইনিং পাথ’ এবং চরম মুদ্রাস্ফীতি দমন করা হয়েছিল। তবে ডেথ স্কোয়াড পরিচালনা, কংগ্রেস বন্ধ করা, সাংবাদিকদের ঘুষ দেওয়া এবং মহাদুর্নীতির অভিযোগে আলবার্তো ফুজিমোরিকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
কেটোর এই চারবারের মতো রান-অফ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী পাউলা তাভারা পূর্বাভাস দিয়ে বলেন, ‘তিনি জিতলে লোকদেখানো সংযম দেখাবেন। কিন্তু বাস্তবে ক্ষমতার লিভার হাতে পেলেই স্বৈরাচারী উপায়ে তা ব্যবহার করবেন এবং প্রতিবাদ হলে দমনমূলক পদক্ষেপ নেবেন।’
এর আগে ২০১১, ২০১৬ ও ২০২১ সালের নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে হেরেছিলেন কেইকো। তার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে পরাজয় স্বীকার না করা এবং ২০২১ সালে ভোট জালিয়াতির ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার পাশাপাশি দুর্নীতি ও সংগঠিত অপরাধের তদন্তে বাধা দিয়ে একাধিক সরকারকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগ রয়েছে।
সমালোচকেরা মনে করেন, গত এক দশকে পেরুতে ৯ জন প্রেসিডেন্ট বদলের পেছনে তার দল ‘পপুলার ফোর্স’ প্রধান দায়ী। বর্তমানে তিনি দেশজুড়ে চলা সহিংস অপরাধ ও চাঁদাবাজি দমনে তার বাবার মতো ‘লৌহ হস্ত’ নীতির প্রস্তাব দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, ৫৭ বছর বয়সি বামপন্থি প্রার্থী রবার্তো সানচেজও জনগণের কাছে বেশ অপছন্দের। তিনি সাবেক বামপন্থি প্রেসিডেন্ট পেড্রো কাস্তিলোর দেওয়া হ্যাট (সোমব্রেরো) মাথায় দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ২০২১ সালে ফুজিমোরিকে পরাজিত করা কাস্তিলোর সরকার চরমপন্থা, অক্ষমতা ও দুর্নীতির অভিযোগে ১৮ মাসের মধ্যে ভেঙে পড়েছিল। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে দুর্নীতি তদন্ত এড়াতে কাস্তিলো কংগ্রেস ও আদালত বন্ধের ব্যর্থ চেষ্টা চালালে তাকে অভিশংসিত ও কারাবন্দি করা হয়।
কেইকো যেখানে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, সেখানে সানচেজ শুরুতে অর্থনীতির বড় খাতগুলো জাতীয়করণ এবং কিউবা বা উত্তর কোরিয়ার মতো আমদানি কমিয়ে স্থানীয় উৎপাদনের নীতি নেওয়ার কথা বলেছিলেন। অবশ্য পরে তিনি মধ্যপন্থায় আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার দলে সাবেক কট্টরপন্থি সেনা কর্মকর্তা আন্তাউরো হুমালার উপস্থিতি তার এই সংযমের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। হুমাল্লা ২০০৫ সালে একটি সামরিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়ে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে হত্যার দায়ে দীর্ঘ মেয়াদে কারাভোগ করেছিলেন এবং এই ঘটনার জন্য তিনি অনুতপ্ত নন।
সূত্র: এনপিআর
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


