ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনা হঠাৎ করে ঘটেনি; মাসের পর মাস নজরদারি, গোপন মহড়া, তারপর গভীর রাতে আকম্মিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে আটক হন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।
গত কয়েক মাস ধরে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর চলাচলের প্রতিটি পদক্ষেপ নজরদারিতে রেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা। ভেনেজুয়েলা সরকারের ভেতরের একটি সূত্রসহ ছোট একটি দল ছিল, যারা মাদুরোর খুঁটিনাটি বিষয় যুক্তরাষ্ট্রকে জানাত।
সিআইএর একজন তথ্যদাতা ছিলেন, যিনি মাদুরোর খুবই ঘনিষ্ঠ। ওই ব্যক্তি মাদুরোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতেন। অভিযান চলাকালে তার একেবারে সঠিক অবস্থানের তথ্য দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন।
ডিসেম্বর মাসের শুরুতে চূড়ান্ত হয় ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’ নামে একটি মিশন। কয়েক মাসের খুঁটিনাটি পরিকল্পনা ও মহড়ার ফল ছিল এটি।
সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্সসহ মার্কিন এলিট সেনারা মাদুরোর ‘সেফ হাউস’ বা নিরাপদ বাসস্থানের একটি হুবহু প্রতিকৃতি তৈরি করেছিল। অত্যন্ত সুরক্ষিত সেই বাসভবনে তারা কীভাবে প্রবেশ করবে, তার অনুশীলনও চালিয়েছিল সেনারা।
চার দিন আগেই ট্রাম্প অনুমতি দিলেও আবহাওয়া ও মেঘমুক্ত আকাশের জন্য অপেক্ষা করা হয়। মার্কিন বাহিনীর শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, ‘ক্রিসমাস ও নববর্ষের মধ্যবর্তী সপ্তাহগুলোতে সবুজ সংকেত মিললেই পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সেনাসদস্যরা তৈরি ছিল।’
শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪৬ মিনিটে প্রেসিডেন্টের আদেশ আসে। আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথ মিলে ২ ঘণ্টা ২০ মিনিটের এক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
এর আগের কয়েক মাসে হাজার হাজার মার্কিন সেনা অঞ্চলটিতে মোতায়েন করা হয়। ছিল বিমানবাহী রণতরি ও বহু যুদ্ধজাহাজ। আর এটি ছিল গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ।
সূত্র: বিবিসি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের কুখ্যাত কারাগারে মাদুরো
ফের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া