ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর কোনো দেশে সামরিক শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমেরিকায় নতুন করে আইন করা হয়। সেই আইন অনুযায়ী কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যেকোনো দেশে যুদ্ধ চালানো বা সামরিক শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের জন্য মাত্র ৬০ দিনের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এরপর যুদ্ধ চালাতে হলে প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে।
এই আইনের নাম ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন’। এই আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট যদি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেন, তাহলে তার সর্বোচ্চ সময়সীমা হবে ৬০ দিন। তবে ইরান যুদ্ধে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো নিয়মেরই তোয়াক্কা করেননি। তিনি অবৈধভাবে যুদ্ধ শুরু করেছেন এবং চালিয়ে যাচ্ছেন। বরং ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর পর কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান তিনি। নিয়ম অনুযায়ী ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে ১ মে। এই সময়ের মধ্যে কংগ্রেসকে ট্রাম্পের এই সামরিক অভিযানের অনুমোদন দিতে হবে। এর পরও যুদ্ধ চালাতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে। নির্দিষ্ট অনুমোদন ছাড়া নতুন কোনো সেনা মোতায়েন করতে পারবেন না ট্রাম্প ।
আইনটি অঘোষিত যুদ্ধের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়। প্রথমত ৪৮ ঘণ্টা। সশস্ত্র বাহিনীকে ‘সংঘর্ষে’ নামানোর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই কংগ্রেসকে অবহিত করতে হবে। যুদ্ধের পরিধি, যৌক্তিকতা ও সম্ভাব্য সময়কাল ব্যাখ্যা করতে হবে।
তবে কংগ্রেসকে ইরান যুদ্ধ সম্পর্কে ট্রাম্প জানিয়েছে যে, তিনি সংবিধানে প্রদত্ত প্রেসিডেন্টের সহজাত ক্ষমতাবলে সেখানে সেনা মোতায়েন করেছেন।
দ্বিতীয়ত কংগ্রেসের অনুমোদন পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসকে অবশ্যই প্রেসিডেন্টকে সামরিক শক্তি প্রয়োগের অনুমোদন দিতে হবে, নতুবা আইন অনুযায়ী সামরিক অভিযানটি সমাপ্ত করতে হবে।
তৃতীয়ত সম্ভাব্য অতিরিক্ত ৩০ দিন। ট্রাম্প ৬০ দিনের সময়সীমা আরো ৩০ দিনের জন্য বাড়াতে পারেন। তবে এর জন্য তাকে সেনাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত সময় দরকার— এ বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করতে হবে। ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য কোনো খারাপ চুক্তি করতে তাড়াহুড়ো করবেন না তিনি।
তবে এই ৬০ দিনের সময়সীমা ঠিক কখন থেকে গণনা শুরু হবে, তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ বলছেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার দিন থেকে, আবার কেউ বলছেন কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর দিন থেকে সময় গণনা করা উচিত। ফলে ডেডলাইনের তারিখ এপ্রিল ২৯ বা মে ১—দুটিই আলোচনায় রয়েছে।
কিন্তু অনেক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা মনে করেন, যুদ্ধবিরতির সময়কাল ৬০ দিনের সময়সীমার মধ্যে গণনা করা হবে না। এমনকি কিছু ডেমোক্র্যাটও বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতি সময়সীমাকে জটিল করে তুলতে পারে।
আইনটি থাকলেও বাস্তবে কখনো এটি ব্যবহার করে কোনো সামরিক অভিযান বন্ধ করা হয়নি। অতীতের বিভিন্ন প্রেসিডেন্ট এই আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


নৈশভোজে হামলাকারী অসুস্থ ও খ্রিষ্টান ধর্মবিরোধী: ট্রাম্প
শিগ্গিরই শেষ হচ্ছে ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্প