উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের জীবনের অনেকটাই রহস্যে ঘেরা। এর মধ্যে অন্যতম তার মাকে নিয়ে তৈরি গোপনীয়তা। গত ১৫ বছর ধরে তিনি শাসন করছেন। কিন্তু একবারও প্রকাশ্যে মায়ের নাম মুখে নেননি। কিমের শাসনের বৈধতা মূলত ‘মাউন্ট পেকতু’ বংশ পরিচয়ের ওপর টিকে আছে। এটি কোরিয়ান জাতির এক পৌরাণিক প্রতিষ্ঠাতার বংশধারা। উত্তর কোরিয়া বংশের এই পবিত্রতা নিয়ে খুব গর্ব করে। তাই কিমের মায়ের আসল পরিচয় সেখানে কেবল একটি গোপন বিষয় নয়, বরং বর্তমান সরকারের জন্য বড় হুমকি।
পৌরাণিক জন্মস্থান
চীন ও উত্তর কোরিয়া সীমান্তে পেকতু পর্বত অবস্থিত। সাধারণ বিশ্বাস অনুযায়ী, এখান থেকেই কোরিয়ার ইতিহাস শুরু হয়। বলা হয়, এটি কোরিয়ার প্রথম রাজ্যের পৌরাণিক প্রতিষ্ঠাতা দানগুনের জন্মস্থান। বহু বছর পর উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুং জাপানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সময় এই পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তার ছেলে কিম জং ইলও এই পবিত্র পাহাড়ে জন্মেছেন বলে দাবি করা হয়।
যদিও আসল তথ্য অনুযায়ী তার জন্ম হয়েছিল রাশিয়ায়। গত কয়েক দশক ধরে কিম রাজবংশের শাসন টিকিয়ে রাখতে এই পর্বতের গল্প ব্যবহার করা হচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার নির্বাসিত কূটনীতিক রিয়ু হিয়ুন উন তার বই ‘কিম জং উন’স সিক্রেট ভল্ট’–এ লিখেছেন, ‘কিম জং উনের বয়স যখন বিশের কোঠায়, তখনই তিনি উত্তরসূরি নির্বাচিত হন। তখনো তার উল্লেখযোগ্য কোনো অর্জন ছিল না। তিনি শুধু পেকতু বংশধারার সদস্য হওয়ার কারণেই সে মর্যাদা পেয়েছিলেন।’
তবে কিম জং উনের মায়ের দিকের পারিবারিক বংশপরিচয়ের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি চিত্র তুলে ধরে।
সাবেক উত্তর কোরিয়ান কূটনীতিক রিউ হিউন-উ একটি বই লিখেছেন। বইটির নাম ‘কিম জং
কিম জং–উনের মা কো ইয়ং–হুই মাউন্ট পেকতু থেকে শত শত মাইল দূরে জাপানের ওসাকা শহরে জন্মেছিলেন বলে মনে করা হয়।
জীবনীকারদের সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, কো ইয়ং–হুই ১৯৫২ সালে ওসাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মা–বাবা এসেছিলেন জেজু দ্বীপ থেকে। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ উপকূলের কাছের একটি দ্বীপ।

জাপানে বসবাসকারী তাদের পরিবারটি ছিল ‘জাইনিচি কোরিয়ান’। ১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সালের ঔপনিবেশিক শাসনামলে কোরিয়া থেকে জাপানে চলে যাওয়া বা সেখানে বসতি গড়া কোরীয় বংশোদ্ভূত মানুষদের একটি অংশকে জাইনিচি কোরিয়ান বলা হয়ে থাকে।
কো ইয়ং হুইয়ের বয়স যখন প্রায় ১০ বছর, তখন তার পরিবার জাপান ছেড়ে উত্তর কোরিয়ায় যায়। ১৯৫৯ থেকে ১৯৮৪ সালের মধ্যে উত্তর কোরিয়ায় ফিরে যাওয়া আনুমানিক ৯৩ হাজার কোরীয় অভিবাসীর মধ্যে তার পরিবারও ছিল। একটি পুনর্বাসন কর্মসূচির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে এ পরিবারগুলো উত্তর কোরিয়ায় গিয়েছিল। ওই কর্মসূচির আওতায় তাদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা, শিক্ষা, চাকরিসহ একটি সুখী ও সচ্ছল জীবনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
প্রথম দিকে উত্তর কোরিয়ায় আসা এসব অভিবাসীকে অনেকেই ঈর্ষার চোখে দেখত। কারণ, তারা জাপান থেকে নগদ অর্থ, উন্নত মানের পোশাক ও বিভিন্ন গৃহস্থালিসামগ্রী নিয়ে এসেছিল। তবে উত্তর কোরিয়ায় এসব অভিবাসীকে ‘জ্যেপো’ নামে ডাকা হতো, যা একটি অবমাননাকর শব্দ। এই শব্দ এমন মানুষদের বোঝাতে ব্যবহার করা হতো, যাদের বিদেশি ও বিপজ্জনক মতাদর্শের প্রভাবে প্রভাবিত বলে মনে করা হতো।
উত্তর কোরিয়ার সমাজব্যবস্থা বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত। অনেক বিশ্লেষক এই ব্যবস্থাকে বর্ণপ্রথার সঙ্গে তুলনা করেন। দেশটিতে বিদ্যমান কঠোর সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতিটি ‘সংবুন’ নামে পরিচিত। সেখানে জ্যেপোদের স্থান ছিল ‘দোদুল্যমান শ্রেণি’-তে, অর্থাৎ শাসকগোষ্ঠীর অনুগত মূল শ্রেণি ও শত্রু শ্রেণির মাঝামাঝি অবস্থানে। এ কারণে জ্যেপোদের কড়া রাষ্ট্রীয় নজরদারিতে রাখা হতো। পাশাপাশি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া বা মর্যাদাপূর্ণ চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা প্রায়ই বৈষম্যের শিকার হতো।
কো ইয়ং–হুইয়ের এই ইতিহাস কিম পরিবারের দীর্ঘদিনের প্রচারিত ‘পেকতু বংশধারা’র গল্পের সঙ্গে একেবারেই সাংঘর্ষিক।
নর্দার্ন রিসার্চ ইনস্টিটিউশনের বিশ্লেষক কিম হিয়ুং সু বলেন, ‘শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে পেকতু বংশধারার যোগসূত্রকে পবিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই দেশের নেতা একজন “জ্যেপো”র সন্তান হতে পারেন-এমন ধারণাই অনেকের কাছে অকল্পনীয়।’
‘সিন্ডারেলার মতো’ জীবন
কো ইয়ং–হুইকে অন্য অনেক জাইনিচি কোরিয়ানের মতো একই পরিণতির শিকার হতে হয়নি। কারণ, তার প্রেম এবং তা কিম জং ইলের মতো ব্যক্তির সঙ্গে। কিম জং–ইল তখন ছিলেন শাসনক্ষমতার উত্তরসূরি।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, কো হুইয়ের সঙ্গে পরিচয়ের আগেই কিম জং ইল বিয়ে করেছিলেন। তার সেই স্ত্রী কিম ইয়ং সুক ছিলেন একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার মেয়ে। সেই বিয়ে হয়েছিল কিম জং ইলের বাবা তৎকালীন শাসক কিম ইল সাংয়ের পছন্দে।
কিম জং ইলের আরো দুজন প্রেমিকা ছিলেন বলেও জানা যায়।
কো ইয়ং হুই উত্তর কোরিয়ার অভিজাত সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য ছিলেন। তার সৌন্দর্য ও নাচের দক্ষতায় মোহিত হয়েছিলেন কিম জং ইল। জাপানি সাংবাদিক ইয়োজি গোমি ২০২৫ সালে কো ইয়ং–হুইকে নিয়ে লেখা একটি বইয়ে এ কথাগুলো লিখেছেন।
বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, কিম জং ইল গভীরভাবে কো ইয়ং হুইয়ের প্রেমে পড়েছিলেন। তাদের তিনটি সন্তানও হয়।
উত্তর কোরিয়ায় বিয়ে ছাড়া জন্ম নেওয়া সন্তানদের সামাজিকভাবে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়। তাই কিম জং ইলের আনুষ্ঠানিক স্ত্রী ইয়ং সুক পিয়ংইয়ংয়ে বসবাস করলেও কো ইয়ং হুই ও তার সন্তানদের রাজধানী থেকে প্রায় ২১০ কিলোমিটার দূরের উপকূলীয় শহর ওনসানে রাখা হয়েছিল।
কিম জং ইলের সঙ্গে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি না পেলেও কো হুই এমন এক জীবন যাপন করেছিলেন, যাকে সাংবাদিক ইয়োজি গোমি তুলনা করেছেন ‘সিন্ডারেলার মতো জীবন’–এর সঙ্গে।
বিভিন্ন সূত্রের মতে, কো ইয়ং হুই ছিলেন কিম জং ইলের সবচেয়ে প্রিয় প্রেমিকা।
তবে একটি বাস্তবতা কখনো বদলায়নি। নির্বাসিত উত্তর কোরীয় কূটনীতিক রিয়ু হিউন উ লিখেছেন, কো ইয়ং হুইকে কখনোই পুত্রবধূ হিসেবে স্বীকৃতি দেননি কিম ইল সাং। তাকে কখনো প্রকাশ্যে কো ইয়ং হুইয়ের সন্তানদের সঙ্গেও দেখা যায়নি।
সেজং ইনস্টিটিউটের গবেষক চং সঙ-চাংয়ের মতে, কিম ইল সাং যদি হুইকে স্বীকৃতি দিতেন, তাহলে তার নাতি-নাতনিদের সঙ্গে কিম ইল সাংয়ের ছবি ব্যাপকভাবে প্রচার করা হতো।
কিম ইল সাংয়ের মৃত্যুর পর কিম জং ইল উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা হন। তখন কো ইয়ং হুই অঘোষিত ফার্স্ট লেডির ভূমিকা পালন করতে শুরু করেন। তিনি কিম জং ইলের সঙ্গে সামরিক পরিদর্শনে যেতেন এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন।
কিম জং ইলের সাবেক ব্যক্তিগত রাঁধুনি কেনজি ফুজিমোতোর বর্ণনা অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেও ইল প্রায়ই হুইয়ের মতামত চাইতেন।
২০১১ সালে নির্মিত একটি সরকারি প্রামাণ্যচিত্রে কিম জং ইলের সঙ্গে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনে যেতে দেখা যায় কো ইয়ং হুইকে। তবে সেখানে তাঁর নাম বা সামাজিক শ্রেণিগত পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
প্রামাণ্যচিত্রটি সাধারণ মানুষের জন্য প্রকাশ করা হয়নি। গবেষক চং সঙ চাংয়ের মতে, ২০১২ সালের জুন মাসে এটি শুধু জ্যেষ্ঠ দলীয় কর্মকর্তাদের দেখানো হয়েছিল। পরে সেটি ফাঁস হয়ে যায় এবং চোরাই পথে আনা ইউএসবি ড্রাইভের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তা ছড়িয়ে পড়ে।
চং সঙ চাং বলেন, ‘এটি ছড়িয়ে পড়ার পর কো ইয়ং হুইকে নিয়ে মানুষের কৌতূহল হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। ফলে সরকার দ্রুত প্রামাণ্যচিত্রটি প্রত্যাহার করে নেয়।’
চং সঙ চাংয়ের মতে, কো ইয়ং হুইয়ের পারিবারিক ও সামাজিক পটভূমি প্রকাশ্যে এলে শাসকগোষ্ঠীর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে-এমন আশঙ্কায় প্রামাণ্যচিত্রটি প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
ক্ষমতার উত্তরাধিকার
২০০৪ সালে কো ইয়ং হুই স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে প্যারিসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তবে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর কোনো গুরুত্বই পায়নি।
তবে প্রেমিকার দ্বিতীয় ছেলে এবং কিম জং ইলের সবচেয়ে ছোট ছেলে কিম জং উন কীভাবে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার উত্তরাধিকারী হয়ে গেলেন?
কিম জং ইলের ঘোষিত স্ত্রী কিম ইয়ং সুকের দুটি সন্তান ছিল। কিন্তু দুজনই মেয়ে হওয়ায় উত্তরসূরি হিসেবে তাদের কথা বিবেচনা করা হয়নি।
কো ইয়ং হুই ছাড়াও কিম জং ইলের আরো দু’জন প্রেমিকা ছিলেন। তারা হলেন সং হে রিম ও কিম ওক। ইলের সঙ্গে কিম ওকের কোনো সন্তান ছিল না।

একসময় মনে করা হতো, সং হে-রিমের গর্ভে জন্ম নেওয়া কিম জং ইলের বড় ছেলে কিম জং নাম উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। তবে বহু বছর বিদেশে পড়াশোনা করা কিম জং নাম শুরু থেকেই শাসকগোষ্ঠীর অপছন্দের ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। তিনি এক দশকের বেশি সময় বিদেশে পড়াশোনা করেছেন এবং ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় সাবলীল ছিলেন।
সাংবাদিক ইয়োজি গোমি বছরের পর বছর ধরে কিম জং নামের সঙ্গে ই-মেইলে যোগাযোগ রেখেছিলেন। তিনি বলেন, কিম জং নাম উত্তর কোরিয়ার বংশানুক্রমিক ক্ষমতা হস্তান্তর ব্যবস্থার সমালোচনা করতেন এবং সংস্কারের পক্ষে মত দিতেন। এ কারণেই তিনি ক্ষমতাকেন্দ্রের সমর্থন হারান। এ ছাড়া ঘন ঘন ক্যাসিনোতে যাওয়া এবং বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপনের কারণে তার সম্পর্কে একজন আনন্দপ্রিয় ও ভোগবিলাসী ব্যক্তির ভাবমূর্তিও তৈরি হয়েছিল।
ম্যাকাউতে কয়েক বছর ধরে নির্বাসিত জীবনযাপনের পর ২০১৭ সালে কিম জং নামকে মালয়েশিয়ায় হত্যা করা হয়। বিমানবন্দরে তাকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল।
নির্বাসিত কূটনীতিক রিয়ু হিউন উ বলেন, কিম জং উনের বড় ভাই কিম জং চুলও উত্তরসূরি হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন। তবে গুরুতর আফিম-আসক্তির কারণে তাকে উত্তরাধিকারীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
ধারণা করা হয়, কো ইয়ং হুই নিজেই তার দ্বিতীয় ছেলে কিম জং উনকে ক্ষমতার উত্তরসূরি করার জন্য সক্রিয় হয়েছিলেন।
সাংবাদিক অ্যানা ফিফিল্ড তার ‘দ্য গ্রেট সাকসেসর: দ্য সিক্রেট রাইজ অ্যান্ড রুল অব কিম জং উন’ বইয়ে লিখেছেন, কো ইয়ং হুই তার বোনের পরামর্শে এ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার বোন তাকে বলেছিলেন, ‘তোমার ছেলেকেই পরবর্তী নেতা হতে হবে, নইলে আমাদের পুরো পরিবার ঝুঁকির মুখে পড়বে।’
বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতার মানসিকতা কিম জং উনকে খুব দ্রুতই তার বাবা কিম জং ইলের প্রিয়পাত্র করে তুলেছিল।
কিম জং উন কিছু সময়ের জন্য সুইজারল্যান্ডে পড়াশোনা করেছেন। তবে বলা হয়, বিদেশে থাকলেও তাকে তার সৎভাই কিম জং নামের তুলনায় অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত ও বিচ্ছিন্ন পরিবেশে রাখা হয়েছিল।
২০১১ সালে কিম জং ইল যখন মারা যান, তখন মাত্র ২৭ বছর বয়সি কিম জং উন উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার শীর্ষে নিজেকে অধিষ্ঠিত করেন।
এরপর কিম জং উন বোন কিম ইয়ো জংকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা দেন। তিনি উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী প্রচার বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হয়।
তবে কিম জং উনের পারিবারিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন আজও তার পিছু ছাড়েনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণেই উনের জন্মদিনকে এখনো জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়নি। কারণ, তার জন্ম ও শৈশব নিয়ে বেশি আলোচনা শুরু হলে তার মায়ের পরিচয় এবং কেন তিনি পিয়ংইয়ংয়ের বাইরে বড় হয়েছেন-এসব স্পর্শকাতর প্রশ্ন সামনে চলে আসতে পারে। অথচ উনের দাদা কিম ইল সাং ও বাবা কিম জং ইলের জন্মদিন উত্তর কোরিয়ায় জাতীয়ভাবে উদ্যাপন করা হয়।
কিম জং উনের পারিবারিক পরিচয় ঘিরে যে গোপনীয়তা রয়েছে, সেটিই সম্ভবত তাকে দ্রুত তার স্ত্রী রি সল জুকে জনসমক্ষে পরিচয় করিয়ে দিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রি সল জু পিয়ংইয়ংয়ের একটি উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছেন বলে মনে করা হয়। তিনি একটি স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক দলের গায়িকা ছিলেন। এ ছাড়া তরুণ বয়সে রি সল জুকে চীনে ধ্রুপদি সংগীত শেখার জন্য পাঠানো হয়েছিল, যা উত্তর কোরিয়ার সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা সংবুনে ভালো পারিবারিক অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হয়।
জাপানি সাংবাদিক ইয়োজি গোমি বলেন, ‘মায়ের পারিবারিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে কিম জং উন যে বৈধতাজনিত সংকোচ ও ক্ষোভ অনুভব করতেন, সেটিই তাকে শুরুতেই স্ত্রী রি সল জু এবং মেয়ে জু আয়েকে সামনে আনার জন্য শক্তিশালী প্রেরণা জুগিয়েছিল।’
এখন প্রশ্ন হলো, যদি কোনো দিন কিম জং উনের মায়ের প্রকৃত বংশপরিচয় ব্যাপকভাবে প্রকাশ্যে চলে আসে, তাহলে কী হতে পারে?
নির্বাসিত উত্তর কোরীয় কূটনীতিক রিয়ু হিউন উর মতে, ‘যদি জানা যায় যে তার (কিম উন) মা জাপানে বসবাসকারী কোরীয় বংশোদ্ভূত পরিবারের সদস্য ছিলেন, তাহলে তা শুধু কিমের শাসনের বৈধতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলবে না; বরং উত্তর কোরিয়ায় বংশানুক্রমিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পুরো ব্যবস্থাকেই নাড়িয়ে দেবে। উত্তর কোরীয় সমাজে এর প্রভাব হবে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের মতো।’
সূত্র: বিবিসি
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


