শেয়ারবাজারে দুর্দান্ত অভিষেকের পর টানা তিন দিন ধরে কমছে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি শত শত বিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য হারিয়েছে। ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন কোম্পানিটি প্রথমবারের মতো ইনভেস্টমেন্ট-গ্রেড বন্ড (বিনিয়োগ-যোগ্য বন্ড) বিক্রি করার ঘোষণা দেওয়ার পরই এই ধস নামে। মূলত নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে বড় ধরনের ঋণ নেওয়ার অংশ হিসেবে এই বন্ড ছাড়ছে কোম্পানিটি।
গতকাল সোমবার স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ১৬ শতাংশ কমে ১৫৪.৬০ ডলারে নেমে বন্ধ হয়েছে। এটি কোম্পানিটি লেনদেন শুরু করার পর থেকে সর্বনিম্ন স্তর। এর ফলে গত তিন দিনে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমেছে মোট ২৩ শতাংশ। এই সময়ের মধ্যে স্পেসএক্স ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাজার মূল্য হারিয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটির মোট বাজার মূলধন ২ ট্রিলিয়ন ডলারের সামান্য ওপরে রয়েছে।
জোন্সট্রেডিংয়ের প্রধান বাজার কৌশলবিদ মাইকেল ও'রুরকে বলেন, 'বিক্রেতারা আবার নিয়ন্ত্রণে ফিরে এসেছেন। বিশ্বের যারা এটি কিনতে চেয়েছিলেন, তারা ইতোমধ্যে তা কিনে ফেলেছেন।'
রেকর্ড ৭৫ বিলিয়ন ডলারের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও ছাড়ার পর স্পেসএক্সের প্রথম দিনগুলোর লেনদেনে ব্যাপক ওঠানামা দেখা গেছে। সাধারণত কম ফ্লোট (লেনদেনের জন্য থাকা শেয়ারের স্বল্পতা) এবং খুচরা বিনিয়োগকারীদের উচ্চ আগ্রহ থাকা নতুন আইপিওগুলোর ক্ষেত্রে এমন অস্থিরতা দেখা যায়। লেনদেনের প্রথম দিনে মোট শেয়ারের মাত্র ৪.২ শতাংশ বাজারে লেনদেনের জন্য উন্মুক্ত ছিল। তবে সোমবারের এই বড় লোকসানের পরও স্পেসএক্স বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম কোম্পানি হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। বর্তমানে এর শেয়ারের দাম আইপিও মূল্য ১৩৫ ডলারের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি রয়েছে।
রকেট, স্যাটেলাইট এবং এআই খাতের এই বৃহৎ প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম বন্ড ইস্যু থেকে অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলে গত সপ্তাহে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে। এ ছাড়া স্পেসএক্স গত সোমবার রিফ্লেকশন এআই নামের একটি এআই স্টার্টআপকে কম্পিউটিং রিসোর্স বা তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা দেওয়ার জন্য কোটি কোটি (মাল্টিবিলিয়ন) ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইলন মাস্কের এক্সএআই অধিগ্রহণের মাধ্যমে স্পেসএক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের সঙ্গে যুক্ত হয়। এই কারণে তাদের এই লিস্টিং বা তালিকাভুক্তির বিষয়টি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের কৌতূহল ছিল। কারণ তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিক পিবিসি এবং ওপেনএআই উভয় কোম্পানিই চলতি বছরের মধ্যে বাজারে আসার পরিকল্পনা করছে। বাজারে আসার সময় তাদের সম্ভাব্য বাজার মূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভান্ডা রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ইতিহাসের যেকোনো আইপিও-র তুলনায় স্পেসএক্সের (যার আনুষ্ঠানিক নাম স্পেস এক্সপ্লোরেশন টেকনোলজিস কর্পোরেশন) খুচরা বা রিটেইল লেনদেন ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। এই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা প্রথম পাঁচ কার্যদিবসে নেট ৪০৫ মিলিয়ন ডলারের শেয়ার কিনেছেন।
তথ্য বলছে, গত সপ্তাহে খুচরা বিনিয়োগকারীরা 'ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন' নামক বিখ্যাত সাতটি কোম্পানির সম্মিলিত শেয়ারের চেয়েও বেশি স্পেসএক্সের শেয়ার কিনেছেন। সোমবারও খুচরা ব্যবসায়ীরা স্পেসএক্সের শেয়ারের নিট ক্রেতা ছিলেন, তবে টাকা আসার পরিমাণ গত সপ্তাহের তুলনায় কম ছিল।
এদিকে ব্লুমবার্গের ট্র্যাক করা তথ্য অনুযায়ী, কিব্যান্ক ক্যাপিটাল মার্কেটস স্পেসএক্সের শেয়ারকে 'সেক্টর ওয়েট' হিসেবে সুপারিশ করে তাদের মূল্যায়ন শুরু করেছে। এটিই কোম্পানিটির জন্য প্রথম 'হোল্ড-ইকুইভ্যালেন্ট' বা শেয়ার ধরে রাখার সমতুল্য রেটিং।
মাইকেল লেশকের নেতৃত্বে বিশ্লেষকেরা লিখেছেন, স্পেসএক্স স্পেস-লঞ্চ বা মহাকাশযান উৎক্ষেপণ এবং এর আশপাশের অন্যান্য খাতে নেতৃত্ব বজায় রাখবে। তবে এর দীর্ঘমেয়াদি মূল্যের বড় অংশই ইতিমধ্যে শেয়ারের এই দামে যুক্ত হয়ে গেছে।
তিনি আরো লিখেছেন, স্পেসএক্সের সামনে 'উল্লেখযোগ্য ও যুগান্তকারী প্রবৃদ্ধির পথ রয়েছে। তবে আমরা বিশ্বাস করি যে, এটি বর্তমান মূল্যায়নেই প্রতিফলিত হয়েছে এবং আমাদের দৃষ্টিতে এর ঝুঁকি ও প্রাপ্তির ভারসাম্য বজায় রয়েছে।'
সূত্র:এনডিটিভি
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


