ইউরোপের তাপপ্রবাহে ভয়াবহ সংকটে সুইস হিমবাহ, দ্রুত গলছে বরফ

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

ইউরোপের তাপপ্রবাহে ভয়াবহ সংকটে সুইস হিমবাহ, দ্রুত গলছে বরফ

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের প্রভাবে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো এ বছর বিপুল পরিমাণ বরফ হারাতে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির হিমবাহ পর্যবেক্ষণ সংস্থা গ্লামোসের প্রধান ম্যাথিয়াস হুস।

বিজ্ঞাপন

বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি জানান, গত শীতে হিমবাহে যে পরিমাণ তুষার ও বরফ জমেছিল, তা আগামী সোমবারের মধ্যেই পুরোপুরি গলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে বছরের যে সময়টিকে ‘গ্লেসিয়ার লস ডে’ বা হিমবাহ ক্ষয়ের সূচনাবিন্দু বলা হয়, সেটি এ বছর রেকর্ডের দ্বিতীয় সর্বপ্রথম সময়ে এসে পৌঁছাবে।

এরপর অক্টোবর পর্যন্ত যে বরফ গলবে, তা সরাসরি সুইস আল্পস অঞ্চলের হিমবাহগুলোর আয়তন কমিয়ে দেবে। ২০০০ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এর আগে শুধু ২০২২ সালেই এই দিনটি আরও আগে, অর্থাৎ ২৬ জুন এসেছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান তাপপ্রবাহের পাশাপাশি মে মাসের অস্বাভাবিক উষ্ণ আবহাওয়া এবং গত শীতে স্বাভাবিকের তুলনায় কম তুষারপাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ম্যাথিয়াস হুস বলেন, “আল্পসজুড়ে আমরা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে তুষার ও বরফ গলতে দেখছি। একটি স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় আমরা প্রায় তিন মাস এগিয়ে আছি।”

তিনি জানান, সম্প্রতি রোন হিমবাহ পরিদর্শনে গিয়ে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে সেখানে প্রায় এক মিটার পুরু বরফ গলে যেতে দেখেছেন। তাঁর ভাষায়, “এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর এবং সম্পূর্ণই তাপপ্রবাহের প্রভাব।”

তবে তিনি বলেন, একবারের তাপপ্রবাহই মূল সমস্যা নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা বজায় থাকাই হিমবাহের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।

হুসের মতে, চলতি বছর ২০২২ সালের মতোই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সে বছর আল্পস অঞ্চলে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বরফ গলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল।

তিনি জানান, ২০১০ থেকে ২০২০ সালের গড়ের তুলনায় এ বছর হিমবাহে প্রায় ২৫ শতাংশ কম তুষার জমেছে। পাশাপাশি মার্চ মাসে সাহারা মরুভূমি থেকে আসা ধুলাবালি তুষারের ওপর জমে সাদা আবরণ দ্রুত গলতে সাহায্য করেছে। ফলে নিচের গাঢ় রঙের বরফ সূর্যের তাপ আরও বেশি শোষণ করছে, যা বরফ গলার গতি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

যদিও চলতি বছরের মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সেপ্টেম্বর মাসে নির্ধারণ করা হবে, তবুও এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে যে এ বছরও হিমবাহে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বরফের ক্ষয় হবে।

প্রায় ১৭০ বছর আগে সুইস আল্পসের হিমবাহগুলো সরে যেতে শুরু করে। প্রথমদিকে গলনের হার কম থাকলেও সাম্প্রতিক কয়েক দশকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহের মোট আয়তন ৩৮ শতাংশ কমে গেছে। গত ৫০ বছরে দেশটি ইতোমধ্যে ১ হাজার ২০০টি হিমবাহ হারিয়েছে এবং বর্তমানে সেখানে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি হিমবাহ অবশিষ্ট রয়েছে।

ম্যাথিয়াস হুস সতর্ক করে বলেন, বর্তমান হারে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন অব্যাহত থাকলে ২১০০ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে কেবল অল্প কিছু বরফের অবশিষ্টাংশই টিকে থাকতে পারে।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন