ব্রিটেনের প্রতি পাঁচ তরুণের তিনজনই ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফেরার পক্ষে

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

ব্রিটেনের প্রতি পাঁচ তরুণের তিনজনই ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফেরার পক্ষে

২০১৬ সালের ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) গণভোটে ভোট দেওয়ার বয়স না থাকায় অংশ নিতে পারেননি এমন তরুণ ব্রিটিশদের বড় একটি অংশ এখন ব্রেক্সিটকে ব্যর্থ মনে করছেন। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, জেনজি প্রজন্মের প্রতি পাঁচজনের তিনজনই ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়ার জন্য নতুন গণভোট চান।

বিজ্ঞাপন

থিংকট্যাংক মোর ইন কমন পরিচালিত এবং দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সি ব্রিটিশদের ওপর করা জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ তরুণ সুযোগ পেলে ইইউতে ফেরার পক্ষে ভোট দেবেন। বিপরীতে মাত্র ৯ শতাংশ ইইউর বাইরে থাকার পক্ষে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

যারা সম্ভাব্য দ্বিতীয় গণভোটে ভোট দিতে আগ্রহী, শুধু তাদের হিসাব করলে ইইউপন্থি ‘রিমেইন/রিজয়েন’ শিবিরের সমর্থন আরও বেড়ে ৮১ শতাংশে দাঁড়ায়। আর ইইউর বাইরে থাকার পক্ষে থাকে ১৯ শতাংশ।

মোর ইন কমনের ৪৪০ জন তরুণের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, জেনজেড ব্রিটিশদের ৫০ শতাংশ মনে করেন ব্রেক্সিট ব্যর্থ হয়েছে। মাত্র ১৬ শতাংশ এটিকে সফল মনে করেন, আর ৩৪ শতাংশ কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।

মোর ইন কমনের নির্বাহী পরিচালক লুক ট্রাইল বলেন, ‘অনেক জেনজেড ব্রিটিশের জন্য ব্রেক্সিট গণভোট ছিল তাদের রাজনৈতিক সচেতনতার শুরুর একটি বড় ঘটনা। তারা ভোট দিতে পারেননি, কিন্তু প্রচারণা ও পরবর্তী বিতর্কগুলোর স্পষ্ট স্মৃতি তাদের রয়েছে।’

তিনি বলেন, জরিপে দেখা যাচ্ছে, তরুণেরা সাধারণত মনে করেন ব্রেক্সিট ব্যর্থ হয়েছে। তবে অনেকেই মনে করেন না যে ধারণাটি শুরু থেকেই ব্যর্থ ছিল; বরং রাজনীতিবিদদের পরিচালনার ব্যর্থতার কারণে এটি সমস্যায় পড়েছে।

ট্রাইল আরও বলেন, তরুণেরা নীতিগতভাবে ইইউতে ফেরার পক্ষে হলেও তারা আবার দীর্ঘদিনের ব্রেক্সিট বিতর্কে ফিরে যেতে অনাগ্রহী। তাদের প্রধান উদ্বেগ হলো জীবনযাত্রার ব্যয়, সাশ্রয়ী বাসস্থান, কর্মসংস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তন।

জরিপ অনুযায়ী, সবচেয়ে কম বয়সি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ব্রেক্সিটবিরোধী মনোভাব সবচেয়ে বেশি। ১৮ থেকে ২১ বছর বয়সিদের ৫৩ শতাংশ ব্রেক্সিটকে ব্যর্থ মনে করেন, যেখানে মাত্র ১২ শতাংশ এটিকে সফল বলেছেন। ২৫ থেকে ২৮ বছর বয়সিদের মধ্যে ব্যর্থ মনে করেন ৪৮ শতাংশ এবং সফল মনে করেন ২০ শতাংশ।

তবে তরুণদের মধ্যে ব্রেক্সিটের সমস্যা নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। প্রায় ৩৭ শতাংশ মনে করেন, ব্রেক্সিট সফল হতে পারত, কিন্তু রাজনীতিবিদদের ভুল ব্যবস্থাপনায় এটি ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে ২৯ শতাংশ মনে করেন, প্রকল্পটিই শুরু থেকে বাস্তবায়নযোগ্য ছিল না।

মাত্র ১১ শতাংশ তরুণ মনে করেন ব্রেক্সিট এখন পর্যন্ত ভালোভাবে কাজ করেছে। ২৩ শতাংশ কোনো মতামত দেননি।

২০১৬ সালের গণভোটে ইইউ ছাড়ার পক্ষে ‘লিভ’ শিবির ৫১.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিল, আর ‘রিমেইন’ শিবির পেয়েছিল ৪৮.১ শতাংশ ভোট। বিশ্লেষকদের মতে, ওই ফলাফলে বয়স্ক ভোটারদের ভূমিকা ছিল বড়।

নির্বাচনি বিশ্লেষক পিটার কেলনারের মতে, ২০১৬ সালের পর ব্রিটেনের ভোটার কাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে বদলেছে। তিনি বলেন, ২০১৬ সালের গণভোটের পর প্রায় ৬০ লাখ ব্রিটিশ মারা গেছেন, যাদের বড় অংশ ইইউ ছাড়ার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, প্রায় ৬০ লাখ তরুণ যারা ২০১৬ সালে ভোট দিতে পারেননি, তারা এখন ভোটার হয়েছেন। এর ফলে ব্রেক্সিটপন্থি সংখ্যাগরিষ্ঠতা কার্যত কমে গেছে বলে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন।

মোর ইন কমনের জরিপে আরও দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ তরুণ চান আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ইইউতে ফেরার বিষয়ে নতুন গণভোট হোক। মাত্র ১১ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন এবং ২৭ শতাংশ নিশ্চিত নন।

যারা ইইউতে ফিরে যাওয়ার পক্ষে, তাদের মধ্যে ৮৮ শতাংশই নতুন গণভোটের পক্ষে মত দিয়েছেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...