ইউরোপজুড়ে চলমান নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত দেশগুলোর একটি ফ্রান্স। দেশটির জনস্বাস্থ্য সংস্থা রোববার জানিয়েছে, গত সপ্তাহে তাপপ্রবাহের চরম সময়ে অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলমান তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার দেশটিতে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে সেদিন ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। পরবর্তী দুই দিন বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার প্রতিদিনই মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৪০০-এর বেশি ছিল। অথচ এপ্রিল ও মে মাসে দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ৯০০ থেকে ১ হাজার মানুষের মৃত্যু হতো।
সংস্থাটি জানিয়েছে, এই তিন দিনেই অন্তত ১ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বাড়িতে মৃত্যুসহ আরও তথ্য সংগ্রহের পর এ সংখ্যা বাড়তে পারে। অতিরিক্ত মৃত্যুর মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশই ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের।
তাপপ্রবাহের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে ফ্রান্সের যেসব এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা (রেড অ্যালার্ট) জারি ছিল। তাপপ্রবাহের চূড়ান্ত সময়ে দেশটির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকা এ সতর্কতার আওতায় ছিল।
এদিকে ইউরোপজুড়ে তাপমাত্রা নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে। জার্মানির পূর্বাঞ্চলের কুবশুটজ এলাকায় রোববার রাতে ২৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা দেশটির সর্বোচ্চ রাতের তাপমাত্রা। এর কয়েক ঘণ্টা আগে স্যাক্সনি-আনহাল্টের মোকার্ন-ড্রেভিৎস এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়।
প্রচণ্ড গরমের কারণে জার্মানির বিভিন্ন স্থানে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ থাকা বনাঞ্চলে আগুন লাগায় উদ্ধারকাজ আরও জটিল হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও বিস্ফোরণের কারণে সাময়িকভাবে আগুন নেভানোর কাজও বন্ধ রাখতে হয়েছে।
বার্লিনে তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত ৫০০টি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে। রাজধানীর ব্রান্ডেনবুর্গ গেটের সামনে মানুষের গরম থেকে স্বস্তি দিতে পুলিশ বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত বিশাল জলকামান দিয়ে ঠান্ডা পানির ছিটা দেয়।
তীব্র গরমে জার্মানির সড়ক ও রেল অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মহাসড়কের কংক্রিট ফেটে যাচ্ছে, রেললাইনের ক্ষতির কারণে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। একটি ট্রেনে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৬০০-এর বেশি যাত্রীকে উদ্ধার করতে হয়। এ ঘটনায় দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সুইডেনে বজ্রপাতে একটি বিনোদন পার্কে কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত এক নারীসহ তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ডেনমার্কে রেকর্ড তাপমাত্রার পর শুরু হয়েছে তীব্র বজ্রঝড়। দেশটিতে একদিনেই ১ হাজার ১৫৬টি বজ্রপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গ্রিসের পাঁচটি অঞ্চলে দাবানলের অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সিভিল প্রোটেকশন সংস্থা।
এ পরিস্থিতির মধ্যে বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক গবেষণা জোট ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’-এর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন না হলে ইউরোপে গত সপ্তাহের এই রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহ ও আর্দ্রতা কার্যত অসম্ভব ছিল। গবেষণায় আরও বলা হয়, ৫০ বছর আগে এমন তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা ছিল প্রায় শূন্যের কাছাকাছি, আর বর্তমানে এটি ২০ বছর আগের তুলনায় প্রায় ২০০ গুণ বেশি সম্ভাব্য হয়ে উঠেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



উপসাগরীয় দেশগুলোকে আবারো যে সতর্কবার্তা দিল ইরান