ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক শেরউড অরণ্যে অবস্থিত এবং কিংবদন্তি নায়ক রবিন হুডের গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা প্রাচীন ‘মেজর ওক’ গাছটি মারা গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের অন্যতম শীর্ষ বন্যপ্রাণী ও পাখি সংরক্ষণ সংস্থা আরএসপিবি।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বিশালাকৃতির এই ওক গাছটির বয়স প্রায় ১ হাজার ২০০ বছর বলে ধারণা করা হতো। প্রায় ৩৬ ফুট পরিধির কাণ্ড এবং বিস্তৃত, আঁকাবাঁকা ডালের জন্য গাছটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র ছিল।
আরএসপিবি জানায়, কয়েক বছর ধরেই গাছটির স্বাস্থ্য দৃশ্যমানভাবে অবনতির দিকে যাচ্ছিল। চলতি বসন্তে গাছটিতে কোনো নতুন পাতা না গজানোয় বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হন যে এটি আর জীবিত নেই।
আরএসপিবি শেরউড ফরেস্টের সিনিয়র সাইট ম্যানেজার হলি ড্রেক এক বিবৃতিতে বলেন, এ বছর মেজর ওক গাছে পাতা না আসা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। বহু বছর ধরে যারা এই গাছটির দেখভাল করেছেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে যারা এটি দেখতে এসেছেন, সবার জন্যই এটি একটি বেদনাদায়ক ঘটনা। তবে রবিন হুড ও শেরউড অরণ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত থাকার কারণে মেজর ওকের উত্তরাধিকার চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।
গাছটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে দুর্বল মাটির গুণগত মান, শিকড়ের ক্ষয় এবং গাছটির আকৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ধাতব সমর্থন কাঠামো ও বিভিন্ন আবরণকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা গাছটির স্বাভাবিক বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহ এবং খরাও গাছটির অবনতিতে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও মেজর ওক আর জীবিত নেই, তবুও এটিকে শেরউড অরণ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে দেওয়া হবে। সংস্থাটির মতে, মৃত গাছটি ভবিষ্যতেও প্রাকৃতিক পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে থাকবে এবং পচনশীল কাঠনির্ভর বিভিন্ন প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের জন্য আবাসস্থল হিসেবে কাজ করবে।
এদিকে আশার খবরও রয়েছে। মেজর ওক থেকে সংগ্রহ করা অ্যাকর্ন (ওক ফল) ও ডালপালা থেকে ইতোমধ্যে নতুন চারা গাছ তৈরি করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেজর ওকের বংশধর চারা রোপণ করা হয়েছে এবং সেগুলোর মাধ্যমে আগামী শতাব্দীগুলোতেও এই ঐতিহাসিক গাছের উত্তরাধিকার টিকে থাকবে বলে আশা করছে আরএসপিবি।
এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে ইতিহাস, প্রকৃতি ও লোককথার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মেজর ওকের মৃত্যু শেরউড অরণ্যের জন্য একটি যুগের অবসান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: এবিসি৭
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় দুবাই ভিসা, ৪ হাজারে মিলছে থাকার হোটেল