আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা, কী বার্তা দিল ইরান

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা, কী বার্তা দিল ইরান
ছবি: এপি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর চার মাস পর ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। এতে কোটি কোটি মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দুই শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যয়বহুল যুদ্ধ এবং কয়েক দশকের চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও এই আয়োজনে কোনো কমতি রাখেনি তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময়েই ধর্মীয় প্রতীকী বজায় রেখে খামেনিকে বিদায় জানাচ্ছে ইরান।

বিজ্ঞাপন

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম পরিচালনগত প্রচেষ্টা। জানাজা সফল করতে এবং জনস্রোত সামলাতে সরকারি কর্মচারী, বিশ্ববিদ্যালয়, শ্রমিক ইউনিয়ন, দমকলকর্মী, সেনা ও উদ্ধারকর্মীদের নিয়োজিত করা হয়েছে। শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিবেশী ইরাকেও এই শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

ইরানের শক্তিশালী পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বার্তায় লিখেছেন, ‘আমাদের অবশ্যই জেগে উঠতে হবে এবং এই রক্তঋণের চিৎকার বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে হবে। বিশ্ব জানুক, ইরান দমে যাওয়ার পাত্র নয়।’

নিরাপত্তার কারণে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ও খামেনির ছেলে মোজতবা আলী খামেনি শোক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন না। সম্প্রতি মোজতবাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল। সেই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে গত মার্চ মাসে দাফন করার পরিকল্পনা ছিল। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই সূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ওই দিনই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসন শুরু হয়েছিল।

আগ্রাসনের ৪০ দিনের মাথায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। গত ১৭ জুন দেশ দুটি একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। এখন তারা কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্থায়ী শান্তিচুক্তির জন্য আলোচনা চালাচ্ছে।

বিশাল এই আয়োজন সফল করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

৫ কোটি রুটি

আগত শোকগ্রস্ত মানুষদের খাওয়ানোর জন্য ১৬টি ভ্রাম্যমাণ বেকারিসহ ৫ কোটি রুটি তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বিশাল ট্রাফিক চিকিৎসাব্যবস্থা

তেহরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ট্রাফিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২ হাজার ৫০০ অ্যাম্বুলেন্স, ২১টি হেলিকপ্টার, ১০০ ড্রোন এবং ২০ হাজার ক্লাসরুম আবাসন হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পানির স্প্রিঙ্কলার

জুলাইয়ের তীব্র গরম থেকে জনতাকে বাঁচাতে মোসাল্লা কমপ্লেক্সের চত্বরে ৬ হাজারের বেশি পানির স্প্রিঙ্কলার বসানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক উপস্থিতি

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গতকাল তেহরানে আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখেইল কাভেলাশভিলি, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান, তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়িলমাজ, রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ গতকাল ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

তেহরানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানান ভারতের বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং কেন্দ্রীয় উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গারিটা, চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির সহসভাপতি হে ওয়েই, তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি প্রমুখ। আরো ছিলেন ফিলিস্তিনের হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিরা।

তবে পশ্চিমা কোনো কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তাদের লক্ষ্য দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ 'বিদায় অনুষ্ঠান' করা। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র টিকে থাকার এবং প্রতিরোধের ক্ষমতা প্রদর্শন করা হবে। তবে এই বিশাল আয়োজনের কারণে তেহরানের সাধারণ নাগরিকেরা তীব্র ট্রাফিক জ্যাম ও জ্বালানি সংকটের মতো ভোগান্তিতেও পড়েছেন।

সূত্র: সিএনএন, আলজাজিরা

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন