স্থিতিশীলতা ফেরাতে জিসিসি ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব ইরাকের

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

স্থিতিশীলতা ফেরাতে জিসিসি ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব ইরাকের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা হ্রাস এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে ইরাক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসাইন জানিয়েছেন, পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) আটটি দেশ এবং ইরানের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিমত দূর করতে ইরাক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের প্রস্তাব দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ইরাক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূলত এই সংঘাতের জেরে ইরাক এক প্রকার পরোক্ষ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল।

খবরে বলা হয়েছে, ইরাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসাইন তার ইরানি সমকক্ষ আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এ বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিকভাবে তীব্র সংকটে পড়েছে ইরাক, কারণ দেশটির জাতীয় রাজস্বের প্রায় ৯৫ শতাংশই আসে এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হওয়া খনিজ তেল রপ্তানি থেকে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির এই ইরাক সফরের পেছনে আরেকটি বড় কারণ রয়েছে। চলতি জুলাই মাসের শুরুতে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই-এর জানাজা ও শেষকৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ এবং কারবালা প্রদেশে। শিয়া মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র এই দুই স্থানে শেষকৃত্যের সার্বিক প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

এমন এক জটিল মুহূর্তে আরাগচি এই সফর করছেন যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক অত্যন্ত নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই এই চুক্তির শর্তাবলী মেনে চলতে হবে—বিশেষ করে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি ও শত্রুতা অবসানের বিষয় উল্লেখ থাকা ‘অনুচ্ছেদ ১’ কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে।

একই সঙ্গে, দক্ষিণ ইরানের সামরিক ঘাঁটি এবং বন্দর অবকাঠামোগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বারবার চালানো হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান।

সূত্র: আল জাজিরা

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...