আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

নতুন সরকারের শপথের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন

এম এ নোমান

নতুন সরকারের শপথের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন
ফাইল ছবি

নতুন সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সংসদ নির্বাচনের চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই হতে পারে নতুন সরকারের শপথ। একটি আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে চায় প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার। এক্ষেত্রে রোজার আগে ১৬ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের চিন্তা করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, সংসদ সচিবালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে সেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বঙ্গভবনকেও প্রস্তুত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।

বঙ্গভবন, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, সংসদ সচিবালয়, গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংসদ সদস্যদের শপথ ও নতুন সরকারের শপথসহ দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো একাধিক বৈঠক করেছে। শপথের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এরই মধ্যে সংসদ সচিবালয় ও গণভবন পরিদর্শন করে সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছেন।

জানা গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরপরই নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সরকারের তরফ থেকে ইতোমধ্যে অনুরোধ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নতুন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না হলে ১৩ বা ১৪ ফেব্রুয়ারি গেজেট প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা হয়েছে। এরপর ১৬ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকারের শপথ পড়ানোর প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে ১৭ তারিখকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর জন্য চারটি বিকল্প বাসভবন নিয়ে আলোচনা হলেও এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমাদের কাছে নির্দেশনা রয়েছে—শপথ অনুষ্ঠানটি সবদিক থেকে যাতে স্মরণীয় ও প্রাণবন্ত হয়। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি। শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, শপথ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের দরবার হলে হলেও এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানটিকে এ যাবৎকালের সেরা অনুষ্ঠান হিসেবে আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে অতিথিদের আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রটোকল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পড়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, শেষ তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানগুলো ছিল মূলত রুটিন ওয়ার্কের মতো। দীর্ঘদিন পর উৎসবমুখর পরিবেশে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি দেশে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় প্রবেশ করবে। ফলে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানটিকেও সরকার আকর্ষণীয় ও সব শ্রেণি-পেশার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণমূলক করার সিদ্ধান্ত আমাদের জানানো হয়েছে। আমরা সেভাবেই উদ্যোগ নিয়েছি। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের পাশাপাশি নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানের জন্য বঙ্গভবনের আয়োজন সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, পুরো শপথ অনুষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রাষ্ট্রপতির আপন (সামরিক) বিভাগের হাতে। তবে এ অনুষ্ঠান পরিচালনা ও দাপ্তরিক সহায়তার দায়িত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তিনি বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ইতোমধ্যেই একাধিক টিম এসে আমাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। এতে দরবার হল ও আশপাশের জায়গাগুলোতে আসন বিন্যাসসহ অন্য বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রস্তুত জাতীয় সংসদ ভবন

আগামী জাতীয় সংসদের অধিবেশনের জন্য সংসদ ভবনকে সংস্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংসদ সচিবালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের পরপরই ছাত্র-জনতা সংসদ ভবনে প্রবেশ করে। এতে অবকাঠামো ও সরঞ্জমাদির ক্ষতি হয়। এগুলোকে সংস্কার করে পুরোপুরি ঠিক করা হয়েছে। এখনই অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু করা যাবে বলে জানান তিনি।

পাশাপাশি এমপি হোস্টেল, ন্যাম ভবন এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনও সংস্কার করা হয়েছে। শেখ হাসিনার পলায়নের পর এগুলোও ব্যাপক আকারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা আমার দেশকে বলেন, আমরা জাতীয় সংসদ ভবনকে সংস্কার করে পুরোপুরি প্রস্তুত করেছি। যে কোনো সময়ে অধিবেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্বাচনে কমিটি

নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে। এ কমিটি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বসবাসের জন্য চারটি ভবন ও স্থাপনা পরিদর্শন করেছে।

এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বিষয়টি আগামী সরকারই চূড়ান্ত করবে। তবে অস্থায়ী বাসভবন হিসেবে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কমিটি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভবনের যে কোনো একটিকে নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা বসবাস করছেন। নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আর প্রধান উপদেষ্টার পদে থাকছেন না। তারপরও বাসভবন ছাড়তে রীতি অনুযায়ী আরো কিছুদিন সময় লাগবে। সে সময় পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে অপর তিনটি বাসভবনের যে কোনো একটিতে বসবাসের জন্য থাকতে হতে পারে।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর বসবাসের উপযোগী করে একাধিক বাড়ি প্রস্তুত করে রেখেছি। তবে, নতুন সরকার যে সিদ্ধান্ত নেয়, আমরা সেটিই বাস্তবায়ন করব।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...