বাঁশখালীতে পাহাড়ি ঢলে দুই শিশুর মৃত্যু, পানিবন্দী দেড় লাখের বেশি মানুষ

উপজেলা প্রতিনিধি, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)

বাঁশখালীতে পাহাড়ি ঢলে দুই শিশুর মৃত্যু, পানিবন্দী দেড় লাখের বেশি মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এরই মধ্যে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে ভেসে মিরাজ ও আশিক নামে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাহারচড়া ইউনিয়নের পৃথক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আশিক দক্ষিণ ইলশা গ্রামের মেহের আলী বাড়ির প্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে। অপর নিহত শিশু মিরাজ বাহারচড়া ইউনিয়নের রত্নপুর এলাকার বাসিন্দা।

বিজ্ঞাপন

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দুই শিশু নিজ নিজ বাড়ির উঠানে বের হলে পূর্ব দিক থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে তারা ভেসে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তাদের মৃত্যু হয়।

দুই শিশুর আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাঁশখালী থানার ওসি রবিউল হক বলেন, “পাহাড়ি ঢলের পানির স্রোতে ভেসে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্যার পানির তীব্র স্রোতের সময় শিশুদের নিরাপদে রাখতে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”

এদিকে টানা ছয় দিনেও বন্যার পানি কমেনি। বরং অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন এলাকায় পানি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করলেও সেখানে খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। দুর্গত মানুষের মধ্যে চরম দুর্ভোগ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

শুক্রবার সকালে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বন্যাকবলিত বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং নগদ অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। শুধু ত্রাণ বিতরণেই সীমাবদ্ধ না থেকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে প্রবীণ, নারী ও শিশুদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন।

এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “দুর্যোগে মানুষের পরিচয় একটাই—সে একজন বিপন্ন মানুষ। ধর্ম, বর্ণ কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় এখানে বিবেচ্য নয়। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব।”

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দ্রুত পর্যাপ্ত ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করা হলে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...