চট্টগ্রামে টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় পরিচালিত এ কার্যক্রমে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা বন্যাদুর্গত বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
শুক্রবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সাতকানিয়ায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের খবর সঠিক নয়। তারা বলেছিলেন, জেলা প্রশাসনের অনুরোধে বন্যাদুর্গতদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী চালক ও সহকারীসহ ১০টি স্পিডবোট দেবে। তবে পরে আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের জরুরি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে মাঠে নেমেছে। টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলায় ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় চার লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এসব এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকারী দল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে ১০ পদাতিক ডিভিশন।
এছাড়া ভারী বর্ষণের কারণে বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাতেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেখানে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। এসব এলাকায় আটকে পড়া মানুষের জন্য অনুসন্ধান ও উদ্ধার (সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ) কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য ২৪ পদাতিক ডিভিশন বন্যাকবলিত এলাকায় তিনটি অস্থায়ী ক্যাম্পও স্থাপন করেছে।
আইএসপিআর জানায়, দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কাজ করে আসছে। বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিষয়টি আমার দেশকে নিশ্চিত করেছেন আইএসপিআরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি-উদ-দৌলা চৌধুরী।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

