চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ঝোপের ভেতর থেকে ব্রাজিলে তৈরি একটি বিদেশি ৯ এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি পূর্বে কোনো থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের একটি হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে অস্ত্রটির প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তদন্ত চলছে।
শুক্রবার কর্ণফুলী থানা চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সৈন্যারটেক পুল এলাকার চার রাস্তার মোড়সংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হাসানাত মোহাম্মদ মাজেদুল হকের নেতৃত্বে এসআই (নিরস্ত্র) জুয়েল মজুমদার ও সঙ্গীয় ফোর্স গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঝোপে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া পিস্তলের সঙ্গে কোনো ম্যাগাজিন পাওয়া যায়নি। অস্ত্রটির বাট প্লাস্টিকের এবং বডি লোহার তৈরি। পিস্তলের এক পাশে ইংরেজিতে ‘টরাস’ (TAURUS) এবং অপর পাশে ‘মেড ইন ব্রাজিল’ খোদাই করা রয়েছে। এছাড়া ট্রিগার ও ফায়ারিং পিন অক্ষত অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, অস্ত্রটি ব্রাজিলের টরাস কোম্পানির তৈরি ৯ এমএম ক্যালিবারের একটি আধা-স্বয়ংক্রিয় পিস্তল। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এটি টরাসের জি৩ সিরিজের মডেলের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ধরনের পিস্তল বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও ব্যবহৃত হয়। তবে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি কোনো সরকারি সংস্থার বরাদ্দকৃত কিনা কিংবা পূর্বে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের তালিকাভুক্ত কিনা, তা ব্যালিস্টিক পরীক্ষা ও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
উদ্ধারের পর পিস্তলটি জব্দ করে কর্ণফুলী থানায় নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। অস্ত্রটি কীভাবে সেখানে এলো, কারা ফেলে গেছে এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র জড়িত রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
কর্ণফুলী থানার ওসি মো. ইখতিয়ারউদ্দিন অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি নিয়ে তদন্ত চলছে। অস্ত্রটির উৎস, মালিকানা এবং সম্ভাব্য অপরাধের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, সব দিক যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

