নিম্নচাপের প্রভাবে পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে চারদিন ধরে চলা টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় খালের পেটে বিলীন হয়ে গেছে বসতঘর। বুধবার ভোররাতের দিকে ঘরের এক-তৃতীয়াংশ ধলিয়া খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
বাড়ির মালিক অধির দাশ জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ধলিয়া খালের পাড়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছেন। ১০ শতক জায়য়গার ওপর নির্মিত বাড়িতে তার পরিবারের ২০ জনেরও বেশি সদস্য বসবাস করত। ধসে যাওয়া টিনশেড ঘরে থাকা সদস্যরা এতে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছে।
দরিদ্র পরিবারের পুরুষ সদস্যরা দীর্ঘ বছর ধরে মাটিরাঙ্গা বাজারে নাফিত ও মুচির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। হঠাৎ এই দুর্যোগে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে তারা। একটি টিনশেড ঘরের এক-তৃতীয়াংশ খালের পেটে গেলেও অপর টিনশেড ঘরটি নদীর দিকে হেলে রয়েছে। যেকোনো সময় সেটাও বিলীন হয়ে যেতে পারে।
খবর পেয়ে বুধবার দুপুরের দিকে মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজালাল কাজল। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজ-খবর নেন এবং সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।
পরে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ইশতিয়াক আহম্মেদ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেন।
এ সময় মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজালাল কাজল, মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান এবং মাটিরাঙ্গা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জয়নাল আবদিন সরকারসহ বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বিকেলের দিকে ঝুম বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়েনের দুর্গম ধনিরামপাড়া ও সাদিয়াবাড়ী এলাকায় দুর্গতদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ইশতিয়াক আহম্মেদ।
এ সময় যেকোনো দুর্যোগে দুর্গতদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের প্রন্তুতি রয়েছে। সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

