মাস্ক পরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আটক

স্টাফ রিপোর্টার

মাস্ক পরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আটক

খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে স্থাপিত ‘জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জেলা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সংঘটিত এ ঘটনার পর শনিবার ভোরে জেলা সদরের সবুজবাগ এলাকা থেকে নুরুল আলম রনি (মো. রনি) নামে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের জেলা শাখার সাবেক সিনিয়র সহসভাপতিকে আটক করেছে খাগড়াছড়ি সদর থানা পুলিশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অগ্নিসংযোগের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরপরই অভিযানে নামে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, এটি ছিল পরিকল্পিত নাশকতার চেষ্টা; তবে বৃষ্টি এবং স্মৃতিস্তম্ভের লোহার কাঠামোর কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে। প্রাথমিক তদন্তে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, মুখে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি প্লাস্টিকের বোতল থেকে পেট্রোলজাতীয় দাহ্য পদার্থ স্মৃতিস্তম্ভের চারপাশে ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি প্লাস্টিকের বোতলও উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের নৈশপ্রহরী সেনময় ত্রিপুরা জানান, রাতের দিকে দুই যুবক সাংগঠনিক কাজের কথা বলে কলেজে প্রবেশ করে। কিছুক্ষণ পরই স্মৃতিস্তম্ভের দিক থেকে আগুনের শিখা দেখতে পান তিনি। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, ঘটনাস্থলে তখন বৃষ্টি হচ্ছিল। পাশাপাশি স্মৃতিস্তম্ভটি লোহার কাঠামোয় নির্মিত হওয়ায় আগুন দীর্ঘ সময় স্থায়ী হতে পারেনি। ফলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, এটি একটি প্রতীকী স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে আতঙ্ক ও অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা হতে পারে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কায় কিসলু বলেন, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আটক ব্যক্তির পাশাপাশি অন্য কোনো সহযোগী থাকলে তাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে কলেজের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা ঘটনাটিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় স্মৃতির প্রতি অবমাননাকর বলে মন্তব্য করেছেন। তারা দ্রুত ঘটনার পূর্ণ তদন্ত, জড়িতদের বিচার এবং কলেজ প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি জাতীয় পর্যায়েও আলোচনায় এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ডিজিটাল আলামত, সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখতে জেলা পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...