মাওনা চৌরাস্তায় ময়লার স্তূপ, বৃষ্টি হলেই বাড়ছে জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ

এস এম জহিরুল ইসলাম, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

মাওনা চৌরাস্তায় ময়লার স্তূপ, বৃষ্টি হলেই বাড়ছে জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র মাওনা চৌরাস্তায় অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন পরিষ্কার না করায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মহাসড়কের দুই পাশের ড্রেন ময়লা-আবর্জনা, পলিথিন, প্লাস্টিক ও পচনশীল বর্জ্যে ভরাট হয়ে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই ড্রেনের দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানি উপচে সড়কে উঠে আসছে। এতে একদিকে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যের জন্যও তৈরি হচ্ছে মারাত্মক ঝুঁকি।

সম্প্রতি শ্রীপুর পৌর প্রশাসন ড্রেন পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে। তবে ড্রেন থেকে উত্তোলিত ময়লা-আবর্জনা মহাসড়কের পাশেই স্তূপ করে রাখায় নতুন করে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃষ্টির পানিতে এসব বর্জ্য আবার গলে ও ভেসে ড্রেনে ফিরে যাচ্ছে। ফলে ড্রেন পরিষ্কারের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি পচা বর্জ্যের দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশও দূষিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, ড্রেনের ভেতরে জমে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন, পচনশীল বর্জ্য ও কাদা পানির স্বাভাবিক প্রবাহ প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। কোথাও কোথাও ড্রেনের অস্তিত্বই ময়লার স্তূপের নিচে চাপা পড়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই এসব ড্রেন উপচে নোংরা পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আব্দুল করিম বলেন, “বৃষ্টি হলেই ড্রেনের কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি সড়কে উঠে আসে। এতে ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না। ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

মাওনা এলাকার বাসিন্দা মোছা. রোকসানা আক্তার বলেন, “ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় বছরের পর বছর ধরে ময়লা জমে আছে। এখন ড্রেন পরিষ্কার করা হলেও ময়লাগুলো রাস্তার পাশে ফেলে রাখায় কোনো লাভ হচ্ছে না।”

স্থানীয় পরিবহন চালক মো. শাহিন মিয়া বলেন, “জলাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করতে বাধ্য হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। দ্রুত স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সোহেল রানা বলেন, “ড্রেনে শুধু বৃষ্টির পানি নয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য এবং টয়লেটের নোংরা পানিও মিশে থাকে। এসব পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় এবং রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাওনা চৌরাস্তা ও আশপাশের মার্কেট, দোকানপাট, বাসাবাড়ি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তরল বর্জ্য বছরের পর বছর ধরে এসব ড্রেনে ফেলা হচ্ছে। অনেক বাসাবাড়ির ব্যবহৃত পানির লাইন ও টয়লেটের সংযোগও সরাসরি ড্রেনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ড্রেনগুলো কার্যত খোলা বর্জ্যাধারে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি টানা বৃষ্টির পর মাওনা চৌরাস্তার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করতে বাধ্য হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. নাহিদ ভূঞা বলেন, “মাওনা চৌরাস্তার জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। ড্রেন থেকে তোলা ময়লা-আবর্জনা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির কারণে কিছুটা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “ইতোমধ্যে ফ্লাইওভার ও সেতুর নিচে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে, যা চলমান রয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ীভাবে সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ড্রেনের বর্জ্য অপসারণ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাওনা চৌরাস্তার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হোক।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন