বেলজিয়ামের আক্রমণভাগে ছিলেন কেভিন ডি ব্রুইনা কিংবা রোমেলু লুকাকুর মতো বিশ্বসেরা তারকারা। ম্যাচের আগে ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের সবার ধারণা ছিল, বেলজিয়ান রেড ডেভিলদের বিধ্বংসী আক্রমণের সামনে হয়তো খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে ইরানের রক্ষণভাগ। তবে লস অ্যাঞ্জেলেসের স্টেডিয়ামে সব হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে দিলেন একজন— তিনি ইরানের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ। পুরো ম্যাচ জুড়ে পোস্টের নিচে একাই যেন ‘মহা প্রাচীর’ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন এই জাদুকরী গোলকিপার।
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জি’-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে রোববার রাতে বেলজিয়ামকেবেলজিয়ামকে গোলশূন্য (০-০) ড্রয়ে রুখে দিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠেছে ইরান। এই ঐতিহাসিক ড্র এবং মূল্যবান ১ পয়েন্ট পাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান বেইরানভান্দের বীরত্বগাথা পারফরম্যান্সের।
ম্যাচের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণে ইরানের রক্ষণভাগকে কোণঠাসা করে ফেলেছিল বেলজিয়াম। তবে পোস্টের নিচে বেইরানভান্দ ছিলেন অটল ও নির্ভীক।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ডি ব্রুইনার বানিয়ে দেওয়া বল থেকে লুকাকুর নেওয়া দুটি নিশ্চিত অন-টার্গেট শট অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্সে রুখে দেন এই ইরানি বাজপাখি।
বেলজিয়ানদের দূরপাল্লার শটগুলো যেভাবে তিনি শরীর ভাসিয়ে গ্রিপে নিয়েছেন, তা গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের বারবার হাততালি দিতে বাধ্য করেছে।
শুধু শট ঠেকানোই নয়, ডি-বক্সের ভেতর আকাশপথের নিয়ন্ত্রণও ছিল পুরোপুরি বেইরানভান্দের দখলে। বেলজিয়ামের উইঙ্গারদের বিপজ্জনক সব ক্রস ও কর্নার কিক নিখুঁত টাইমিংয়ে পাঞ্চ করে দলকে বারবার বিপদমুক্ত করেছেন তিনি।
ম্যাচের শেষ দিকে বেলজিয়াম ১০ জনের দলে পরিণত হলে ইরান নির্ভয়ে অল-আউট আক্রমণে যাওয়ার সাহস পায়। প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২ গোল হজম করা ইরান যে বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে কোনো গোল না খেয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে, তার পুরো কৃতিত্বই বেইরানভান্দের।
গ্লাভস হাতে আলিরেজা বেইরানভান্দের এই অতিমানবীয় বীরত্বই এখন ইরানকে টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে যাওয়ার এক উজ্জ্বল স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

