নিজের তৈরি প্লেনে আকাশে উড়লেন মারুফ, স্বপ্ন ছোঁয়ার পথে তরুণ উদ্ভাবক

উপজেলা প্রতিনিধি, সদরপুর (ফরিদপুর)

নিজের তৈরি প্লেনে আকাশে উড়লেন মারুফ, স্বপ্ন ছোঁয়ার পথে তরুণ উদ্ভাবক

ছোটবেলা থেকেই আকাশে উড়ার স্বপ্ন ছিল তার। পাখির ডানা দেখে ভাবতেন, একদিন তিনিও উড়বেন নীল আকাশে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিজের ইচ্ছাশক্তি ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে ছোট আকারের একটি প্লেন তৈরি করেছেন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার খেজুরতলা গ্রামের তরুণ উদ্ভাবক মারুফ মোল্যা। নিজের তৈরি সেই প্লেনে আকাশে উড়ে এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি।

দরিদ্র পরিবারের সন্তান মারুফ মোল্যা উপজেলার খেজুরতলা গ্রামের মোজাহার মোল্যার ছেলে। প্রায় সাত মাসের পরিশ্রমে অল্প খরচে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক আসনের ছোট প্লেন তৈরি করেন তিনি। গত ৮ জুলাই বিকেলে সদরপুর উপজেলার আকটেরচর ইউনিয়নের পদ্মার তীরবর্তী চরাঞ্চলে নিজের তৈরি প্লেন নিয়ে আকাশে ওড়েন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এর আগে নিজের তৈরি প্যারাগ্লাইডিংয়ের মাধ্যমে আকাশে উড়ে আলোচনায় আসেন মারুফ। এবার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্লেন নিয়ে আকাশে উড়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই তরুণ উদ্ভাবক। যদিও প্লেনটির উড্ডয়ন উচ্চতা ছিল তুলনামূলক কম, তবে নিজের তৈরি উড়োজাহাজ আকাশে ওড়ানোর স্বপ্ন পূরণ করেছেন তিনি।

মারুফের এই সৃজনশীল উদ্যোগে খুশি স্থানীয়রা। প্রতিদিনই তার তৈরি প্লেন দেখতে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা পেলে মারুফ আরও উন্নত প্রযুক্তির কিছু তৈরি করে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনতে পারবেন।

উদ্ভাবক মারুফ মোল্যা বলেন, “এসএসসি পাস করার পর কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু অর্থের অভাবে আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারিনি। তবে আকাশে ওড়ার স্বপ্ন কখনো থেমে যায়নি। ইউটিউব দেখে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করি। পরে মানিকগঞ্জের জুলহাস ভাইয়ের তৈরি প্লেন দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের মেধা ও দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই প্লেন তৈরি করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “শুরুতে প্লেনে কিছু ছোটখাটো ত্রুটি ছিল। পরে মানিকগঞ্জের জুলহাস ভাইয়ের পরামর্শ নিয়ে সেগুলো সংশোধন করেছি। এখন আকাশে ওড়াতে তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ব্যালেন্স করতেও অসুবিধা হয় না।”

মারুফ জানান, তার তৈরি প্লেনটি বানাতে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে তিনি মাঝে মধ্যেই নিজের তৈরি প্লেন নিয়ে অনুশীলনের জন্য আকাশে ওড়েন। তার স্বপ্ন, একদিন এই প্লেন আরও বেশি উচ্চতায় উড়ে মেঘ ছুঁয়ে যাবে।

স্থানীয় চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “মারুফ একজন প্রতিভাবান তরুণ। সরকারি সহযোগিতা পেলে সে আরও উন্নত ও ভালো কিছু তৈরি করে দেখাতে পারবে। তার প্রতিভাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা উচিত।”

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন