মোংলায় মাদক মামলার সাক্ষী দুর্বৃত্তের হামলায় গুরুতর জখম

উপজেলা প্রতিনিধি, মোংলা (বাগেরহাট)

মোংলায় মাদক মামলার সাক্ষী দুর্বৃত্তের হামলায় গুরুতর জখম
ছবি: আমার দেশ

বাগেরহাটের মোংলায় একটি মাদক মামলায় সাক্ষী হওয়ার জেরে এক কলেজ শিক্ষার্থীর ওপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে মোংলা থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ চিলা মাদ্রাসা ব্রিজের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত কলেজ শিক্ষার্থী হাসিব হাওলাদার শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল দুষ্কৃতকারী দেশি অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাদীর অভিযোগ, হামলাকারীরা রামদা, হকিস্টিক, হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে হাসিবকে গুরুতর জখম করেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং পকেটে থাকা ৮ হাজার ৭০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত শিক্ষার্থীর বাবা বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘কিছুদিন আগে এজাহারে উল্লেখিত আসামিদের মধ্যে একজনকে মাদকসহ আটক করে প্রশাসন। এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে আমাকে ওই মামলায় সাক্ষী করা হয়। আসামি কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়ার পর থেকেই আমাকে বিভিন্নভাবে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। আজ আমার ছেলে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওই মাদক ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বে কয়েকজন সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেছে।’

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি একটি মাদক মামলায় বাদীপক্ষের সাক্ষী হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মোংলা থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

তবে এজাহারে যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি এবং মুঠোফোনে ফোন দিলে ফোন রিসিভ করেননি।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন