চুয়াডাঙ্গায় বিরামহীন বৃষ্টিতে অস্বস্তিকর পরিস্হিতিতে পড়েছে জনজীবন। শুক্রবার রাত ৩টা ৪০ মিনিট থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। এ জেলার ৪টি উপজেলা শহর ও পৌরসভা জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। বৃষ্টির পানি নোংরা ড্রেনের সঙ্গে মিশে রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে।
তবে বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি কাজে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। সড়কগুলোরও একই হাল। সড়কের দুই পাশ বৃষ্টির পানি জমে যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এ ব্যাপারে রয়েছে উদাসীন।
এদিকে জেলার দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা-গোবিন্দহুদা গ্রামে দিনরাত অবৈধভাবে ফসলী জমি থেকে বালি তুলে হাজার হাজার ট্রাক্টর বিক্রি করার কারনে, দামুড়হুদা-কার্পাসডাঙ্গা সড়কের পাশের মাটি আলগা হয়ে বৃষ্টির পানির তোড়ে ভেঙ্গে গেছে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষ চলাচলকারী এই সড়কে যানবাহন চলাচল হুমকির মধ্যে পড়েছে। যে কোনো মুহূর্তে বড় ভাঙন সৃষ্টি হয়ে সড়কটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এছাড়া জয়রামপুর কাঁঠালতলা বাজার থেকে কুমারীদহ যাওয়ার রাস্তা ধসে গেছে। এই রাস্তার মসজিদের কাছে রাস্তাটি ধসে গেছে বলে গ্রামবাসী জানিয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন জানান, তিনি ভাঙনের স্থান পরিদর্শন করেছেন। সে সময় তার সঙ্গে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এ সড়কটির ভাঙনরোধ করে কীভাবে চলাচলের উপযোগী করা যায়, সে ব্যাপারে কাজ চলছে বলে তিনি জানান।
বৃষ্টির পানিতে ডুবে টইটম্বুর হয়ে গেছে ফসলি মাঠ । কর্মজীবী মানুষ বৃষ্টির কারনে বাড়ি থেকে বের হতে পারেনি। সে কারণে রাস্তাগুলো জনমানুষ শূন্য দেখা গেছে। শহরে রিকশা, ইজিবাইক ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল কম লক্ষ্য করা গেছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, শুক্রবার রাত ৩টা ৪০ মিনিট থেকে এদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

