নেত্রকোনার দুর্গাপুর সীমান্তে বন্য হাতির তাণ্ডব বেড়েছে । বন্য হাতির তাণ্ডব ঠেকাতে সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়েছে । সোমবার দুপুরে দাহাপাড়া এলাকার পাহাড়ি সড়কের পাশে স্ট্রিট লাইট স্থাপনকাজের উদ্বোধন করা হয়।
জানা গেছে, প্রতি বছরই সীমান্ত এলাকায় বন্য হাতির আক্রমণে আদিবাসী ও বাঙালি কৃষক প্রাণ হারান। একই সঙ্গে নষ্ট হয় কৃষিজমির ফসল, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন ফলের বাগান। বন্য হাতির এই তাণ্ডব থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ও ২ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় ২০টি সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি জনপদের মানুষ বন্য হাতির আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। প্রায়ই সীমান্ত পেরিয়ে ১৭ থেকে ৩০টি হাতির দল লোকালয়ে নেমে এসে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। এসব হাতি কৃষকদের বোরো ধানের ক্ষেত, আম-কাঁঠাল ও কলার বাগান নষ্ট করার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে ঘরবাড়িও ভেঙে ফেলে।
হাতির আক্রমণে একাধিক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে এ এলাকায়।
গত ৫ মে দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ভবানীপুর এলাকায় বন্য হাতির আক্রমণে পার্থ রাংসা নামে এক যুবক নিহত হন। এ ঘটনার পর স্থানীয় মানুষের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির বিশেষ উদ্যোগে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিহত পার্থ রাংসার বাবা লিপসন নকরেক সোলার লাইট স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা জাফর আলী বলেন, ‘পাকা ধান ও কাঁঠাল পাকার মৌসুমে এ অঞ্চলে বন্য হাতির আক্রমণ বেড়ে যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাত বলেন, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এর ফলে স্থানীয় আদিবাসী ও বাঙালি কৃষকদের জানমালের নিরাপত্তা অনেকাংশে বাড়বে। পাশাপাশি বন্য হাতির মুখোমুখি হলে কী করণীয়, সে বিষয়ে বন বিভাগের স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

