নিহত রুবেলের পরিবারের দাবি

ধর্ষণের তকমা দিয়ে হত্যার ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা

ময়মনসিংহ অফিস

ধর্ষণের তকমা দিয়ে হত্যার ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা

ময়মনসিংহ শহরের ছত্রিশবাড়ি কলোনির ভাড়া বাসায় খুন হওয়া রাজিব আহম্মেদ ওরফে রুবেলের (৪০) পরিবার হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তাদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ধর্ষণের গল্প সাজানো হয়েছে।

শনিবার ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহত রুবেলের বোন হালিমা আক্তার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মায়ের ধর্ষককে গলা কেটে হত্যা করলেন ৪ ছেলে’ শিরোনামে যে প্রচারণা চালানো হয়েছে তা ছিল পরিকল্পিত।

বিজ্ঞাপন

তার দাবি, বানোয়াট ধর্ষণের গল্প ছড়িয়ে দিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা। বরং পূর্বশত্রুতার জেরে আসামিরা ভাড়া বাসায় চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে রুবেলকে হত্যা করেছে। এরপর হত্যার প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে বাড়ির মালিক পারুল বেগমকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল এমন মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, রুবেল মাদকাসক্ত ছিলেন এবং বাড়ির মালিক পারুল বেগমও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে রুবেলকে হত্যা করা হয়েছে।

এ সময় নিহত রুবেলের বাবা আব্দুল হামিদ ছেলের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে নিহত রুবেলের দুই শিশু পুত্রসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআইয়ের দাবি, রুবেল প্রায় এক মাস আগে ওই বাসায় ভাড়া ওঠেন। তার বিরুদ্ধে বাসায় মাদকসেবন ও বিভিন্ন ব্যক্তির আড্ডার অভিযোগ ছিল। এসব কারণে বাড়ির মালিক তাকে বাসা ছেড়ে দিতে বলেছিলেন।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকালে রুবেল বাড়ির মালিকের কক্ষে গিয়ে দরজায় লাথি মারেন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি বাড়ির মালিককে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এর জেরে বাড়ির মালিকের চার ছেলে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তার গলায় আঘাত করে হত্যা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ময়মনসিংহ পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান, এ ঘটনার পর পারুল বেগমসহ তার চার ছেলে রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬) ও ইমরাজ (১৮) এবং সজল (৪০), রনিকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। তাদের আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন