সিরাজগঞ্জে এক ফার্মেসি মালিককে কুপিয়ে হত্যা এবং তার বাইসাইকেল ও টাকা ছিনতাইয়ের মামলায় সাত যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৩ আদালতের বিচারক নজরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হামিদুল ইসলাম দুলাল জানান, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর আদালত সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় সব আসামি পলাতক ছিলেন। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার রেলওয়ে কলোনির আব্দুর রহমানের ছেলে শাহাদত হোসেন কুটুম, একই এলাকার আবুল কালামের ছেলে তারা মিয়া, মালশাপাড়া মহল্লার নান্নু ডাকাতের ছেলে ইমরান, মীরপুর উত্তরপাড়ার এরশাদ আলীর ছেলে উজ্জ্বল, রেলওয়ে কলোনির মুখরম মণ্ডলের ছেলে রিকো, একই এলাকার আনছার আলীর ছেলে গোলাম এবং হোসেনপুর খলিফাপাড়া মহল্লার নুর ইসলামের ছেলে টোকাই মনির।
মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, নিহত সাধন কুমার চক্রবর্তী পেশায় একজন ওষুধ ব্যবসায়ী ছিলেন। সিরাজগঞ্জ শহরের বাজার স্টেশন এলাকায় তার একটি ফার্মেসি ছিল। ২০১০ সালের ১৪ অক্টোবর রাতে দোকান বন্ধ করে বাইসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে পৌর এলাকার মীরপুর বিড়ালা কুঠি এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তার গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তার কাছে থাকা ওষুধ বিক্রির টাকা এবং বাইসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় লোকজন তার চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ১৫ অক্টোবর সকালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই শ্রী চন্দন কুমার চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

