অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় শেষ বিদায়

বাবার ইমামতিতে শিবির নেতার দাফন সম্পন্ন

উপজেলা প্রতিনিধি, সাঘাটা (গাইবান্ধা)

বাবার ইমামতিতে শিবির নেতার দাফন সম্পন্ন
ছবি: আমার দেশ

বাবার ইমামতিতে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় ইমামতি করেন নিহত শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর পিতা, উপজেলা জামে মসজিদের ইমাম হাবিবুর রহমান।

সোমবার বিকাল ৪টায় বোনারপাড়া সরকারি কাজী আজহার আলী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

জানাজায় অংশ নিয়ে গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ তার বক্তব্যে বলেন, এভাবে প্রকাশ্যে ছাত্র শিবির কর্মী সাইফুল্লাহকে হত্যার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না৷ তিনি পুলিশ প্রশাসনের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কেন আসামি ধরা পড়ছে না। তিনি বলেন, মানুষ খুন করে এদেশ থেকে খুনি হাসিনা যেমন পালিয়েছে, তেমন পরিণতি হওয়ার আগেই সবাইকে সাবধান হয়ে যেতে হবে।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন, গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের আমির ও সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্ল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক আরাফাত হোসেন মিলন, কেন্দ্রীয় ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল,

কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল, গাইবান্ধা জেলা ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল কারযাভী, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক আরাফাত হোসেন মিলন, কেন্দ্রীয় ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল,

কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি, মুজাহিদ ফয়সাল, গাইবান্ধা জেলার সাবেক সভাপতি ফেরদৌস সরকার রুম্মান, সেক্রেটারি ফাহিম মন্ডল, সাঘাটা উপজেলা আমির ইব্রাহিম সেক্রেটারী আব্দুল ওয়ারেছ উপজেলা শিবির সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা।

সাইফুল্লাহর জানাজায় মানুষের ঢল নেমেছিল। শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর অশ্রু জলে তাকে শেষ বিদায় জানাতে সর্ব স্তরের জনসাধারণ জানাযায় অংশগ্রহণ করেন। তার মৃতদেহ এক নজর দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে।

কান্নায় ভেঙে পড়েন তার সহযোদ্ধা, বন্ধুবান্ধব, আপনজন, পাড়া-প্রতিবেশীসহ সব বয়সের নারী পুরুষ। তার প্রতিবেশী কামরুজ্জামান বলেন, সাদাসিদে একজন ভালো মানুষের বিদায় হয়ে গেল। সাইফুল্লাহ ছিলেন একজন সজ্জন ও মানব দরদী মানুষ। মানুষের কষ্টে, মানুষের দুঃখে পাশে দাঁড়াতে তিনি এক সেকেন্ড দেরি করতেন না বলে কান্না জানালেন, তার বন্ধুবান্ধব।

প্রসঙ্গত, রোববার দুপুরে বোনারপাড়া চৌমাথা মোড়ে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে বাটি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মুকুলের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এ সময় ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিন এগিয়ে গেলে তাদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। তাৎক্ষণিক স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মিটে যায়। এর কিছুক্ষণ পর  মুকুল, তার সহোদর পলাশ ও আশরাফ ক্ষিপ্ত হয়ে চৌমাথায় দাঁড়িয়ে থাকা সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিনকে ছুরিকাঘাত করে। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাইফুল্লাহকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, গুরুতর আহত সালাউদ্দিনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত সাইফুল্লাহ বারী শিমুলতাইড় গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন হাবিবুর রহমানের ছেলে। আহত সালাউদ্দিন একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার মাওলানা দুদু মিয়ার ছেলে।

সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, শিবির নেতা হত্যাকান্ডের ঘটনায় সাঘাটা থানা পুলিশের অভিযানে অভিযুক্ত আশরাফ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সজাগ রয়েছে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন