তিস্তা নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

জেলা প্রতিনিধি, লালমনিরহাট

তিস্তা নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ছবি: আমার দেশ

ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে আবারও ফুঁসে উঠেছে তিস্তা নদী। এতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে তিস্তার চরাঞ্চলের ফসলি জমি।

রোববার সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার সাত সেন্টিমিটার ওপর (৫২ দশমিক ২২) দিয়ে প্রবাহিত হয়! তবে সোমবার সকাল ৯টায় পানি প্রবাহ সামান্য কমে গিয়ে এখনো বিপদসীমা ছুই ছুই করছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান। তিনি আরো বলেন, তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে যেকোনো সময় পানি আরও বাড়তে পারে ।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যে ভুটান ও সিকিম পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির চাপে তিস্তা নদী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দো-মহনী ও মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে বাংলাদেশে ধেয়ে আসায় উভয় দেশের তিস্তায় লাল সতর্কতা জারির খবর পাওয়া গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সতর্কতার মধ্যে রয়েছি ও তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইচ গেট খুলে রাখা হয়েছে। নদীর আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

​পাউবো জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে সবশেষ ২৩ জুন প্রথমবারের মত তিস্তার পানি বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপরে উঠেছিল, যা পরদিনই নেমে যায়। রোববার সন্ধ্যা থেকে আবারো পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের ৫ উপজেলা ছাড়াও তিস্তা তীরবর্তী আশপাশের জেলা গুলো চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট এবং ফসলি জমি তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।

​নদী তীরবর্তী সদর উপজেলার খুনিয়া গাছ এলাকার তমিজ উদ্দিন বলেন, হঠাৎ পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বসতবাড়িতে পানি ওঠায় গবাদিপশু ও শিশু-বৃদ্ধদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ​পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

ভারী বর্ষণ ও ভারত নিয়ন্ত্রিত গজলডোবা ব্যারেজের সবগুলো গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তা নদীর পানি রোববার রাতে বিপৎসীমা অতিক্রম করে ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়! সোমবার সকাল ৯ টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে সামান্য কমে বিপদ সীমা ছুঁই ছুঁই করছে! যে কোনো সময় ফের বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে! ভারতের গজলডোবা ব্যারে থেকে ধেয়ে আসা পানির ঢল সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেটের সবগুলোই খুলে দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বাড়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী চরসহ সদর উপজেলার তিস্তা চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। বালু চর ও নিম্নাঞ্চলের বাদামক্ষেত, ধানের বীজ তলা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল গুলোতে ইতিমধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে।

তিস্তাপাড়ের কৃষক জাফর উদ্দিন বলেন, তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে চরঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এ নিয়ে আমরা আতংকে আছি। এতে আমাদের চরের ফসল গুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে।

গড্ডিমারী গ্রামের কৃষক শাহেদ মিয়া বলেন, শুনছি ভারত পানি ছেড়ে দিয়েছে। এ পানি যদি এভাবে আসতে থাকে চর অঞ্চলে আমন ধানের চারা গুলো নষ্ট হয়ে যাবে। এছাড়াও বাদাম, মিষ্টি কুমড়াসহ অনেক ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।

তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানির লেভেল পরিমাপক নুরুল ইসলাম বলেন, তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার রায় বলেন, বন্যা এবং ভাঙ্গন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, তিনি বলেন নদী পাড়ের মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে!

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন